বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটির নজিরবিহীন বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত

105
gb


রাজীব, এস হাসান, এডমন্টন:গতকাল ২৭ এপ্রিল রোজ শনিবার নজিরবিহীন উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে কানাডার আলবার্টায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটি অব এডমন্টন ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারে বর্ষবরণ, বৈশাখীমেলা, ফ্যাশান শো, নাচ, গান এবং চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।  অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল অর্ধ্ব শতাধিক শিশু-কিশোরের অংশ গ্রহনে পেইন্টিং প্রতিযোগিতা,নববর্ষ পদক বিতরন, মঙ্গল শোভাযাত্রা সহ নানাবিধ উপস্থাপনা ও দেশীয় পানি-পান্তা, কাচা-মরিচ ও ইলিশ মাছ সহ রকমারী খাদ্য পরিদেশন ও বিপনন ষ্টল।

বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটি অব এডমন্টনের সভাপতি ম. লস্করের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী অমরজিত সোহী,সণ্মানিত অতিথি এডমন্টনের স্থানীয় এম.এল.এ, বিশেষ অতিথি ও বিচারক মন্ডলী ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডাইভার্স এডমন্টন সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ, ডাঃ পারভেজ এবং ইন্জিনীয়ার হালিম সরকার।

বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠান তথা মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বৈশাখী মেলা সামাজিক অনাচার আর অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ- কানাডা সহ সাড়া বিশ্বে বাংলা নতুন বছর, যেন শুভ হয় সেই প্রত্যাশা। মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশেএই প্রতিপাদ্যে এবার ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এডমন্টনে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতীক ঘুড়ি, তরুণদের ঊর্ধ্বপানে চাইবার এবং চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এর মাধ্যমে।

বাঙালিদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীর জাষ্টিন ট্রোডো । এছাড়াও প্রধান অতিথি কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী অমরজিত সোহী বলেন কানাডা  বহু সংসকৃতির দেশ অন্যের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করার সক্ষমতা রাখে এ দেশ।

বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উত্সব সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক। এর মধ্যে নিহিত রয়েছে বাঙালির আত্মপরিচয় এবং জাতিসত্তা বিকাশের শেকড়। স্বাধীনতা পূর্বকালে বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধের ওপর বারবার আঘাত এসেছে।

নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে ভিন্নধারায় প্রবাহিত করতে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ভিনদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি। কিন্তু বাঙালি জাতি তা কখনো মেনে নেয়নি।

দেশবাসী ও প্রবাসী বাঙালিসহ সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা  জানিয়ে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার অনুরোধ , দারিদ্রমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ডাইভার্স এডমন্টন সম্পাদক দেলোয়ার জাহিদ বলেন জীবন হোক ভয়হীন, চলাচল হোক উন্মুক্ত স্বাধীন”—নতুন প্রজন্ম এটাই  প্রত্যাশা  করে। তরুণ প্রজন্মকে মাথা তুলে দাঁড়াবার, সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানোর প্রয়াস এই শ্লোগানে। সব বাধা পেরিয়ে অনন্ত সম্ভাবনার সামনে তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে যাবে সেই কথাটুকু তাদের সামনে তুলে ধরার নজিরবিহীন সুযোগ তৈরী হয়েছিলো এ অনুষ্ঠানে।

 

এডমন্টনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সন্তান-সন্তুতি ও শিশুকিশোরদের জন্য “নববর্ষ কিশোর ও যুব পুরস্কার ১৪২৫”  এবছর ১৪২৬ বঙ্গাব্দে বিতরণ করা হয়। নাভিদ মির্জা, মিয়া আনাফ রহমান, সাওউতি চৌধুরী, ইলতিফাত নাহিয়ান (অনন্যা), আনাস আইহাম, পিয়াল তালুকদার,রৌদশী চৌধুরী, আকাশ দাস, নাফিসা মির্জা, কানিজ ফাতিমা, ইলতিজা নাহিয়ান (সূকর্না), আয়াত ইসলাম, রাহাত ভূঁইয়া, আফরাহ আনম হোসেন, আলফি শাহরীন রহমান প্রমূখ.বাংলাদেশ কানাডা হেরিটেজ সোসাইটি অব এডমন্টন এর  নতুন ও ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগটি স্পন্সর্ করেছে ডাইভার্স এডমন্টন। ২০১৭ সালে আলবার্টা পার্লাম্যান্টে  বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি দান ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে সংসদীয় সন্মাননা ভোজ প্রদান করা হয়। প্রবাসে বাংলাদেশের জন্য তা বিরল মর্যাদার স্থান করে দিয়েছে। ৪, এপ্রিল ২০১৭ আলবার্টা পার্লাম্যান্টে নিউ ডেমোক্র্যাট ককাস এর সহযোগিতায় বাংলা নববর্ষকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাদেশিক পরিষদে একটি বিবৃতি উত্থাপিত হয়েছে। সণ্মানিত ডেনিস ওলার্ড, এমএলএ তা সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। সংসদে উভয় দল বিপুল করতালির মাধ্যমে একে স্বাগত জানান ।

মাননীয় স্পিকার রবার্ট ই ওয়ানার বাংলা নববর্ষকে নিয়ে হাউজের গভীর আগ্রহের কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেন।

শিশু-কিশোরদের পেইন্টিং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন বিশেষ অতিথি ও বিচারক মন্ডলীর সদস্য সর্বজনাব ডাঃ পারভেজ এবং ইন্জিনীয়ার হালিম সরকার।

সোনিয়া ইসলামের পরিচালচায় ও আহসান উল্লার সহযোগিতায় তিন জেনারেশনের ফ্যাশান শো অনুষ্ঠিত হয়।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More