বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল হক খানের স্মরণে যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের স্মরণ সভা

76

জিবি নিউজ২৪.কম ||

যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জামাল আহমেদ খানের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল হক খানের স্মরণে পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ভেন্যুতে যুক্তরাজ্য যুবলীগ আয়োজন করে এক স্মরণ সভার।

যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ফক্রুল ইসলাম মধুর সভাপতিত্বে এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম আহমেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলিগের সভাপতি  সুলতান মাহমুদ শরীফ, প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি শামসুউদ্দিন খান, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য গউস সুলতান,সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন,সহ সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইম উদ্দিন রিয়াজ,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সারব আলী,আনছাৱুল হক, কাওছার আহমদ, কাউন্সিলর আহবাব হুসাইন, কাউন্সিলর রিতা , সাবেক কাউন্সিলর নূর উদ্দিন, সাজিয়া স্নিগ্ধা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রথমেই মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল হক খানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে  কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন  মাওলানা শফিকুর রহমান বিপ্লবী।

স্বাগত বক্তব্যে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ফক্রুল ইসলাম মধু বলেন, ৪৭ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা বাবার পাওয়া সত্যি বিরল এবং  আমাদের সবার কাছেই আবেগের।জামাল খানের দীর্ঘদিনের সে স্বপ্ন সফল হয়েছে এতদিন পর।মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের বীর সন্তান। তাঁদেরকে ভুলে যাওয়া দেশকে ভুলে যাওয়া।মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ এবং সম্মান আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশীর দায়িত্ব।সাধারন সম্পাদক সেলিম আহমেদ খান সকলকে বিশেষ অনুরোধ জানান জামাল খানের পিতা এবং মাতার জন্য দোয়া করতে।

এরপর যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমদ খান তাঁর পিতা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নুরুল হক খানের সংক্ষিপ্ত জীবন বিত্তান্ত সকলের সামনে তুলে ধরেন সেই সাথে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর পিতার ছবি পাওয়ায় সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক সহ সৈয়দ মোজাম্মেল আলী,লুতফুল হাসান,কর্নেল রশিদ,  আন্বারুজামান চৌধুরী এবং সাজিয়া স্নিগ্ধার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন,বাংলাদেশে এখনও অনেক সন্তান আছে জামালের মত যারা পিতাকে দেখেনি , পিতার স্নেহ মায়া মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাঁদের সকলের জন্য আমাদের কাজ করা ও সহযোগিতা করা নৈতিক দায়িত্ব।জাহানারা ইমাম তাঁর ছেলের খোঁজ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত পায়নি জামাল সৌভাগ্যবান যে ৪৭ বছর পর তাঁর শহীদ বাবার ছবি ও খোঁজ জেনেছে।   

প্রধান বক্তা যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান ফারুক বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এতদিন পরে পিতার ছবি পেয়েছে এটি আমাদের জন্য গর্বের। জামাল খানের পিতা শহীদ নুরুল হক খান সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতার মাসে আমাদের সালাম ও শ্রদ্ধা।  

বিশেষ অতিথি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের অসীম দায়িত্ব। তাঁদের জন্যই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদ নুরুল হক সিলেট তথা সারা বাংলার গর্ব। সরকারের কাছে অবিলম্বে শহীদ নুরুল হকের নামে একটি রাস্তা নামকরনের জোর দাবী জানাই।   

যুক্তরাজ্য যুবমহিলালীগের সাধারন সম্পাদক সাজিয়া স্নিগ্ধা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দেশের সূর্যসন্তান।তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা।নিজের সুখ সুবিধা, পরিবার পরিজন, সংসারের কথা চিন্তা না করে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পরেছিল স্বাধীন দেশের আশায়।স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারকে যে কোন কাজে সহযোগিতা করা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ব্যপারে সবসময় আপোষহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

গউস সুলতান বলেন জামালের অভাব আমরা কেউ পুরন করতে পারব না কিন্তু আমরা দোয়া করি আল্লাহ যেন তাঁর বাবাকে বেহেস্ত নসীব করেন এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে জামাল যেন সফলতা পায়।

নইমুদ্দিন রিয়াজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং তাঁদের পরিবারদের যারা বিতর্কিত করার চেষ্টা করে তারা সবাই রাজাকার।এমন কুলাঙ্গারদের আমরা ধিক্কার জানাই।  

উল্লেখ্য শহীদ নুরুল হক খানের জন্ম ১৯২৭ সালের ১১ই ডিসেম্বর সিলেট জেলায়।১৯৪৯ সালের ১১ই ডিসেম্বর বিজিবি ( তৎকালীন ইপিআর )তে চাকুরীতে যোগদান করেন।চাকুরীতে থাকাকালীন ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে বাবা বাড়িতেআসেন গর্ভবতী স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে দেখত।  তখনও জামাল খানের জন্ম হয়নি।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআরসদস্যরা।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর আক্রমণ করে  এবাহিনী সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়। শহীদ নুরুল হকখান(ব্যাচ নং ১০১২৮)তখন ইপিআর  একজন ”নায়েক” ছিলেন। যদিও ছুটিতে ছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ডাকে আর তাঁকে আটকে  রাখা যায়নি। পরিবার পরিজনসন্তান , অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে বেড়িয়ে যান বাড়ি থেকে মুক্তিযুদ্ধ করতে।ইপিয়ারের ১২হাজার বাঙালি সৈনিক অন্যান্য বাহিনী  মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে  মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে। ইপিয়ারের মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধগেরিলা যুদ্ধ  শত্রুঘাঁটি নিশ্চিহ্নকরতে আত্নঘাতি আক্রমণসহ অসংখ্য দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে ইপিয়ারের সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন।যুদ্ধ শেষ হয়। দেশ স্বাধীন হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ঘরে ফিরে আসতে শুরু করে।ইপিআরের অফিসাররাও অনেকে ফিরেআসতে শুরু করে কিন্তু নুরুল হক খান আর ফিরে আসে। ১৯৭১ সালের ৫ই মে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন নুরুল হক খান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য যুবলীগের সহ সভাপতি আফজল হোসেন, আকতার আহমদ রিবু,নাজমুল ইসলাম, ফিরুজ আহমদ,মোস্তাক আহমদ ফয়েজ, সৈয়দ শামীম,সামাদুর রহমান রাহিন,খান,দেলোয়ার হোসেন লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমদ আলী,দিলাল আহমদ, অর্থ সম্পাদক আজাদুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মহসিন, প্রবাস বিষয়ক সম্পাদক দুলাল, কবিরুল ইসলাম,জুবায়ের আহমেদ,যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামীলীগের আঞ্জুমান আরা আঞ্জু ,হুসনা  মতিন,নাজমা হুসাইন,যুক্তরাজ্য যুবমহিলা লীগের সাজিয়া স্নিগ্ধা,শাহিন নাহার লীনা, মাহমুদা মনি, হাসিনা হুসাইন, মিতা কামড়ান, শাহ্নাজ সুমি,লন্ডন মহানগর যুবলীগের সভাপতি তারেক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ফয়ছল হুসেন সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আহমদ, হাফিজুর রহমান বাবলু,আতিকুর রহমান বজলু, বাবলু মিয়া, মুজাহিদ আলী লিটন, ওসমানীনগর থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সুহেল, জাবেদ আহমদ আম্বিয়া, আলী আকবর, ইস্টলন্ডন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সহসভাপতি নাহিদ আহমদ জায়গিরদার, বারমিংহাম যুবলীগের সভাপতি এমদাদুর রহমান সুয়েজ, শফিক আহমদ, সিরাজুল ইসলাম তছলু, হোসাইন আহমদ,ঊর্মি মাজহার, তানভির আহমেদ, আনসার আহমেদ উল্লাহ, মজিবুল হক মনি , রুবি হক যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ  এছাড়াও সাংবাদিক এবং কমিউনিটির রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য
Loading...