সংবিধান সংস্কারের জন্য আন্দোলনে নামবে ১১ দল

gbn

সংবিধান সংস্কারের জন্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও  সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আন্দোলন ছাড়া আমাদের করার আর পথ কী আছে? আন্দোলন আমরা করব। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই করব। তবে আমাদের ১১ দল একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নেব।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তার আগে সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বিরোধী দল।

শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়।

তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

 

জামায়াত আমির বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে।

 

তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল—কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবে আংশিক রাজি হয়েছেন এবং সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলেছিলাম, এটা হতে হবে সংবিধান সংস্কার। আমাকে মিসকোট করা হয়েছে।

 

তিনি স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সেদিন নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। স্পিকার তাকে পরদিন কথা বলার সুযোগ দেন।

বিরোধীদলীয় নেতা জানান, পরদিন তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন এবং জানতে চান আলোচনার সিদ্ধান্ত কী হয়েছে। জবাবে স্পিকার অতীতের মুলতবি প্রস্তাবগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবের মধ্যে মাত্র তিনটি গৃহীত হয়েছিল এবং বর্তমান প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি, আলোচনা দিয়েই শেষ হয়েছে।

এতে গভীর হতাশা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংকটের প্রতিকার চেয়েছিলাম, সংকট সৃষ্টি করতে আসিনি। কিন্তু জাতির দেওয়া ম্যান্ডেটকে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে অমান্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় এবং এর প্রতিবাদেই তারা ওয়াক আউট করেছেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, জনগণের অভিপ্রায়কে চাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে একটি নোটিশ আনা হয়েছে। আমরা ওই নোটিশেরও প্রতিবাদে ওয়াক আউট করেছি।

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে তিনটি গণভোট হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনগণের রায় অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম এমন হলো, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত ছিল, সবাই ভোট চেয়েছিল, অথচ পরে এসে সেটিকে অগ্রাহ্য করা হলো। এর মাধ্যমে সংবিধানের চূড়ান্ত ভিত্তি—জনগণের রায়কেই লঙ্ঘন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরেই বিষয়টির সমাধান হলে জনগণ আনন্দিত হতো। কিন্তু তা না হওয়ায় এখন তাদের সামনে একমাত্র পথ—জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া।
আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের কর্মসূচি গ্রহণ করব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের মতো এবারও জনগণ তাদের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হবে।

শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই। ১১ দল দ্রুত একত্রে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জামায়াত আমির উল্লেখ করেন।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন