সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আশরাফিয়াহ এলাকায় ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি সন্ত্রাসী সংগঠন পিকেকের দখলে ছিল।
আলেপ্পো শহরকেন্দ্রে পিকেকেবিরোধী অভিযানে যুক্ত সামরিক সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, সিরীয় সেনারা দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে আশরাফিয়াহ এলাকায় প্রবেশ করে অধিকাংশ অংশ দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত বিশেষ টাস্কফোর্স ইউনিটগুলোও আশরাফিয়াহ এলাকায় প্রবেশ করে তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
তবে আশরাফিয়াহ এবং পার্শ্ববর্তী শেখ মাকসুদ এলাকায় এখনও কিছু কিছু স্থানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।
এ বিষয়ে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম ঘারিব এক বিবৃতিতে জানান, এই দুই এলাকাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফেরাতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসডিএফ নাম ব্যবহার করে পরিচালিত পিকেকে/ওয়াইপিজি গত ৬ ডিসেম্বর থেকে তাদের দখলে থাকা এলাকা থেকে আলেপ্পোর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে।
এর আগে গত ১০ মার্চ সিরিয়ার সরকার ঘোষণা দেয়, এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ওই ঘোষণায় সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং দেশ বিভাজনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
সিরীয় সরকার পিকেকে/ওয়াইপিজিকে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে এবং আলেপ্পোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও গোষ্ঠীটি হামলা অব্যাহত রাখে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিরীয় সেনাবাহিনী শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকায় সন্ত্রাসী অবস্থান লক্ষ্য করে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান শুরু করে।
সংঘর্ষ চলাকালে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আলেপ্পোর বহু বেসামরিক বসতিতে হামলা চালায়।
৬ ডিসেম্বরের পর থেকে চালানো এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন সিরীয় নিহত হয়েছেন এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগাই বেসামরিক।
আলেপ্পো সিটি সেন্টার কমিটি জানিয়েছে, সহিংসতার কারণে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজারে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন