গাইবান্ধায় বর্নাঢ্য আয়োজনে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

231
gb

 ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা //

গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে হানাদার মুক্ত উদযাপন কমিটির আয়োজনে সকাল ১১টায় হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব এলাহী রঞ্জু (বীর প্রতীক) এর নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি গাইবান্ধা শহরের প্রধান প্রধান প্রদক্ষিণ করে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটির উদ্বোধন করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)এ.বি.এম সাদেকুর রহমান। এতে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন: সাধারন সম্পাদক রনজিদ বকসি সূর্য,বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আরেফিন তারেকসহ বীরমুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য্#৩৯;আজকের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের আনন্দে ফেটে পড়ে গাইবান্ধার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ।রাজাকার ও পাকিদের গাইবান্ধা শহর থেকে বিতাড়িত করতে কোম্পানী কমান্ডার বীর প্রতীক মাহাবুব এলাহী রঞ্জু’র নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসী ঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরের উপকন্ঠে এসে ফলিয়া ব্রিজের একপ্রান্তে অবস্থান নেয়। ৫ডিসেম্বর সকার থেকে শুরু হয় যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের মুখে হানাদাররা পিছু হটতে থাকে। বেশ কিছু রাজাকার ধরা পড়ে। ৬ তারিখেও দিনরাত যুদ্ধ হয়। মিত্রবাহিনীর বিমান রেল স্টেশন এলাকায় বোমা বর্ষণ করলে পাকিদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। ৭ডিসেম্বর চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা প্রস্তুতি নিয়ে জানতে পারেন শক্রুরা শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এসময় হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের কাধে করে তৎকালিন এসডিও মাঠ বর্তমান স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে নিয়ে আসে। সেখানে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। কমান্ডার রঞ্জু গাইবান্ধাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করেন। এর আগে ৭১’র ১৭ এপ্রিল বিকেলে পাক হানাদার বাহিনী মাদারগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর হয়ে গাইবান্ধায় প্রবেশ করে। তারা ভিএইডের ওয়ারলেস দখল করে। পরবর্তীতে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে (বর্তমান শাহ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম) ঘাঁটি করে। এই ঘাঁটি থেকেই তারা শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন চালাতে থাকে। তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ ধরে এনে হত্যা করার পর মাটিতে পুঁতে রখে। বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটের পাশেও ॥অসংখ্য লাশ সে সময় পুঁতে রাখা হয়। তাই এই স্থানগুলো পরে বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এর মধ্যে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ অংশে এবং স্টেডিয়ামের বাইরে অসংখ্য মানুষ হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। প্রতি রাতেই স্টেডিয়ামের পাশে কফিল শাহ’র গোডাউন নামে পরিচিত প্রাচীর ঘেরা এই এলাকায় দালালদের সহায়তায় অসহায় মানুষদের ধরে এনে পাকসেনারা তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করত। বিভিন্ন বয়সী মেয়েদের এখানে ধরে এনে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পার্শ্ববর্তী রেল লাইনের ধারেও গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখা হতো।