Bangla Newspaper

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে যোগ দিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

71

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের গত ৮ দিনের মধ্যে আজ রবিবার ঢাকার রাস্তায় পুলিশকে মারমুখী দেখা গেছে। অষ্টমদিনে বিক্ষোভগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেশি ছিল। স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল কম। ঢাকার জিগাতলা এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠি পেটার ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।

জিগাতলা এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশকে দফায় দফায় কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে দেখা যায়। সেখানে পুলিশের সামনে হেলমেট মাথায় দিয়ে ‘একদল যুবক’ লাঠি এবং কিরিচ দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পেটানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপরও হামলা করেছে।

দুপুরে বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে জিগাতলা মোড়ে যখন আসে, তখন পুলিশ মিছিলের সামনে এবং পিছনে দুই পাশ থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। তবে পুলিশের মারমুখী আচরণে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আবারও সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে জড়ো হয়ে জিগাতলার দিকে এগুনোর চেষ্টা করে।

পুলিশ আবারও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেসময় পুলিশের পাশাপাশি হেলমেট মাথায় দেয়া ‘একদল যুবক’কে লাঠি এবং কিরিচ দিয়ে বিক্ষোভকারীদের পেটাতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা থেকে হটে গেলে পুলিশের পাশাপাশি লাঠি হাতে যুবকদেরও পুরো ঐ এলাকা নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা সাংবাদিকদের উপরও হামলা করে। এই হামলায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছে।

এদিকে, পুলিশ এবং হেলমেট পরা যুবকদের বাধায় বিক্ষোভকারীরা ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন গলিতে এবং আশের ভবনে আশ্রয় নেয়।এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে এবং অংশগ্রহণে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিলেন। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিলেন।

স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন নেমেছেন? এই প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, জিগাতলায় শনিবার স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে তারা এই বিক্ষোভ করেন।

এদিকে ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। তার মানে এই নয় যে, তারা অরাজকতা করতেই থাকবে, আর আমরা বসে বসে দৃশ্য দেখবো। মোটেই নয়। আমাদেরও ধৈর্যের সীমা রয়েছে। সেটা অতিক্রম করলে আমাদের ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই নেব।’

Comments
Loading...