Bangla Newspaper

বিএনপি-জামায়াত খুনি-লুটেরারা যেন আর কখনোই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারেঃ প্রধানমন্ত্রী

54

বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকলে দেশে লুটপাট করে, মানুষ খুন করে, কোনো উন্নয়ন হয় না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই খুনি-লুটেরারা যেন আর কখনোই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একটা দলকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা—এটাই ছিল বিএনপির উদ্দেশ্য। যেহেতু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী, তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী—তারাই এর সঙ্গে জড়িত। এটা তো স্পষ্ট বোঝা যায়, তাদের উদ্দেশ্যই ছিল আমাদের সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করা।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালানো ওই হামলায় নারী নেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২২ জন নেতাকর্মী মারা যান। নিহত হয়েছিলেন আরো দুজন, যাঁদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। হামলার সময় আওয়ামী লীগের নেতারা মানববর্ম সৃষ্টি করে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট, তখন বিএনপি ক্ষমতায়—খালেদা জিয়া, তার ছেলে এবং তার দল ও তার ক্যাবিনেটের মন্ত্রী, সে পর্যন্ত জড়িত।’ ওই হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হলেও সেদিন সন্ধ্যায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করা হয়। এ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আলামতগুলো তারা নষ্ট করে ফেলল।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে গ্রেনেড ব্যবহার হয় যুদ্ধক্ষেত্রে আর সেই গ্রেনেড দিনদুপুরে ব্যবহার করা হলো। এমন নয় যে একটা গ্রেনেড মেরে দিয়ে পালাল, তা নয়। একটার পর একটা—১৩টা গ্রেনেড মারা হলো। এ-জাতীয় ঘটনা যারা ঘটাতে পারে…আমি বিরোধীদলীয় নেতা। আমাকে হত্যার জন্য সরকারের প্রধান এবং তার ছেলে মিলে যদি ষড়যন্ত্র করে, তাহলে সেই দেশে কী অবস্থা আপনারা চিন্তা করতে পারেন! এই সমস্ত ঘটনা তারা ঘটিয়েছে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে  বলেন, ‘এই হত্যার বিচার চলছে। আমরা আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এই বিচারের রায় হবে। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর দলের পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্রের মা’ আখ্যা দেওয়া জনগণের সঙ্গে তামাশা বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে গ্রেনেড হামলা করায়, যে মানুষ খুন করে, এতিমের টাকা মেরে খায়, তার নাম আবার তারা বলে গণতন্ত্রের মা। এটা তো খুনির মা বলতে হয়, গণতন্ত্রের মা না। চোরের মা। কারণ তার ছেলে মানি লন্ডারিং করে…আমেরিকা থেকে এফবিআই এসে সাক্ষী পর্যন্ত দিয়ে গেছে। এর জন্য সাজা পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যে ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, কালো টাকা সাদা করে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে; সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়। এই হলো বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে তামাশা করা।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনি আর জালিমদের কাছে যেন বাংলাদেশের ক্ষমতা না যায়, যারা বাংলাদেশকেই বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

Comments
Loading...