মুক্তিযোদ্ধা যেখানে ভিক্ষুক!

241
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা

একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধঅংশগ্রহণ করেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামেরমুক্তিযোদ্ধা মো. মফছার আলী (৭৭)। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।দেশ রক্ষা বিভাগের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রের এমন প্রমাণ রয়েছে।
ওই প্রমাণ পত্রে স্বাক্ষর রয়েছে তৎকালীন স্বশস্ত্র বাহিনীর মহানায়কমহাম্মুদ আতাউল গণি ওসমানীর। মফছার আলী ১১নং সেক্টরেস্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণের অবদানের উল্লেখ আছে। তিনি ১৭/০৮/১৯৪৫ইং
তারিখে জন্ম গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ২০ আগষ্ট তিনি প্রথম মুক্তিযুদ্ধেঅংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার
রৌমারী ৩০৩ রাইফেল চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের কলা কৌশল প্রশিক্ষণে অংশনেন। মুক্তিযুদ্ধে করাকালীন সময়ে কুড়িগ্রাম, চিলমারী ও নাগেশ্বরীএলাকায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।মফছার আলী জানান, যুদ্ধকালীন সময়ে তার অধিনায়ক ছিলেন উইং
কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান সেকসন/কোম্পানী/প্লাটুন কমান্ডার ছিলেযথাক্রমে হাবিলদার কাওছার, আবুল কাশেম ও আব্দুল মান্নান। মুক্তিযুদ্ধ
শেষে তিনি গাইবান্ধার ৩০৩ রাইফেল মেলিশিয়া ক্যাম্পে অস্ত্র সমর্পনকরেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তীকালে অনেকসরকারের পরিবর্তন ঘটে। নতুন সরকারের আগমন ঘটেপ্রকৃতমুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই ও তালিক প্রণয়নের আদেশ-নির্দেশ পাওয়াযায়। কিন্তু তা দলীয় প্রভাব মুক্ত ছিল না। এতে যাচাই-বাছাই কমিটিতেস্বজনপ্রীতি, অন্যায় সুবিধা অর্জন, উৎকোচ বাণিজ্য, প্রতিহিংসাইত্যাদির অনুপ্রবেশ ঘটে। অসংখ্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ পড়ে।
মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পায় অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম।এতে যাচাই-বাছাই কমিটির প্রভাবশালী নেতা-কর্মীদের ভাগ্যের চাকাও
দলে যায়। অমুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি সুযোগ সুবিধা অব্যাহত থাকে।আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বঞ্চনার শিকার হয়। তাদের নাম তালিকাভূক্ত
হয়নি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এরা এখনো উপেক্ষিত। এমন
পরিস্থিতির শিকার মফছার আলী (৭৭) বিভিন্ন সরকারের আমলে প্রকৃতমুক্তিযোদ্ধার নির্দেশিকার বিধান মতে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে
অনেক আবেদন নিবেদন করেও উপকৃত হয়নি। হতাশাগ্রস্থ এইমুক্তিযোদ্ধা এখন ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে জীবন
সংসার চালাচ্ছে। পথে পথে ঘুরছে ভিক্ষার থালা হাতে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, পৈত্রিক সূত্রে মাত্র তিন বিঘা আবদি জমিথাকলেও তিনি বিভিন্ন সময়ে এই তিনি বিঘা জমিও বিক্রি করেবর্তমানে ভূমিহীন। অনাহার অর্ধাহারে তার পরিবারের জীবন কাটাতেহচ্ছে। স্ত্রী গোলাপী বিনা চিকিৎসায় ২৫ বছর আগে মারা গেছে।
দুই ছেলে শরিফুল (২৪) ও শফিকুল (২৭ কর্মহীন বেকার। এরা রাজধানীঢাকায় রিকসা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। বিবাহিতা দুই
কন্যা যথাক্রমে মুক্তি ও জ্যোস্না পরের বাড়িতে গতর খাটে। তাদেরস্বামীও কর্মহীন বেকার। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র প্রদর্শন করে বৃদ্ধমফছার ভিক্ষার হাত পাতিয়ে চলতে হচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, ভিডিডিকর্মসূচীর তালিকায় নাম নেইসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগও নাগালেরবাইরে।ঢাকায় অবস্থানরত পুত্রের গোয়াল ঘরে বসবাস করছেন মফছার আলী। নিজবাড়ি ঘর নেই। স্বাধীনতা অর্জনের যার অবদান আছে। প্রয়োজনীয়প্রমাণাদিও আছে। তার ভাগ্যে এমন দুর্দশার প্রতি কেউ নজর দিচ্ছে নাকেন-এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযোদ্ধা মফছার আলী বলেন স্থানীয়মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিহিংসাকে দায়ী করে তিনি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আপীর আবেদনপাঠালেও তা এখনো অকার্যকর। দেখার কেউ নেই বলে তিনি কান্নায়ভেঙ্গে পড়েন।