সাপাহারের বরেন্দ্র মাটিতে আনারস চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

1,072
gb

গোলাপ খন্দকার সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি ||

সিলেট কিংবা মধুপুরের সু মিষ্ট রসালো ফল আনারস এখন নওগাঁর বরেন্দ্র অ ল সাপাহারে চাষাবাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। আর সে সম্ভাবনাকে হাতে কলমে প্রমান করেছেন বে-সরকারী সংগঠন আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশ এর কর্মকর্তা কর্মচারীগন।
সম্প্রতি তারা দেশের সিলেট অ ল থেকে আনারসের চারা সংগ্রহ করে সংগঠনের কিছু সম্পত্তি ও কিছু বর্গা নেয়া সম্পত্তিতে চারা রোপন করে যতœ নিয়ে ছিল। কিছু দিনের মধ্যেই তাদের যতœ নেয়া আনারসের গাছগুলি সুন্দর ভাবে সতেজ ও তরতাজা হয়ে ওঠে এবং মৌসুমে প্রায় প্রতিটি গাছে একটি করে আনারস আসে। রুক্ষ বরেন্দ্র এলাকায় প্রথম তাদের নিজ হাতে লাগানো গাছগুলিতে আনারস আসতে দেখে সকলের মন আনন্দে ভরে ওঠে। এ বিষয়ে ওই অফিসের ব্যাস্থাপক বেলাল উদ্দীন আহম্মেদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশ নামের বে-সরকারী সংগঠনটি ২০০৮সালে সাপাহার উপজেলায় এসে এলাকার কৃষি খ্যাতকে উন্নয়নশীল করণে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সে সাথে নিজ উদ্যোগে অফিস ক্যাম্পাসে বিখ্যাত ড্রাগন ফল, মালটা, কমলা সহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় গাছের চাষাবাদ শুরু করেন। এর পর গত ২০১৫সালে প্রথম আনারসের চারা সংগ্রহ করে তারা অফিস এলাকায় পরীক্ষামুলকভাবে রোপন করেন। পরবর্তীতে এক বছর পর ২০১৬সালে প্রথম সাপাহারে উৎপাদিত আনারস বাজার জাত করেন এবং ২০১৭সালে এর পরিধি একটু বৃদ্ধি করে তাদের উৎপাদিত আনারস বাজারজাত করে সকল উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা মুনাফা লাভ করেন। বরেন্দ্র এলাকার মাটি রুক্ষ হওয়ায় এবং তারা আনারস ক্ষেতে পর্যাপ্ত হরমন জাতীয় কীটনাশক ব্যাবহার না করায় সিলেট কিংবা মধুপুরের আনারসের চেয়ে সাপাহারের আনরস আকারে একটু ছোট হলেও এর স্বাধ কিংবা মিষ্টিগুন অন্যান্য এলাকার আনারসের চেয়ে অনেক বেশী। তবে ক্ষেতে পর্যাপ্ত সেচ ব্যাবস্থা, একটু বেশী পরিচর্যা ও হারমন জাতীয় কীটনাশকের ব্যাবহার বৃদ্ধি করলে এর আকার সিলেট কিংবা মধুপুরের আনারসকে ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। সাপাহার এলাকার মাটি রুক্ষ বরেন্দ্র হলেও এই মাটিতে আনারস চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি তার মত ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন আরোও জানান যে, আলোহা সোস্যাল সার্ভিসেস বাংলাদেশের উৎপাদিত আনারস তিনি খেয়েছেন এবং অন্যান্য এলাকার আনারসের চেয়ে এর গুনাগুন অনেক বেশী বলেও জানিয়েছেন। তিনিও মনে করেন সাপাহারের বরেন্দ্র রুক্ষ মাটিতে আনারস চাষের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে তাই ভবিষ্যতে তিনি এলাকার কৃষকদের আনারস চাষে উদ্বোদ্ধ করবেন বলেও জানিয়েছেন।