উদ্ধার হলেন স্ত্রী আটক হলেন মাদকব্যবসায়ী, আসছে লাখো কল

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯

332

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:১২ দিনে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৯টি কলগত ১২ ডিসেম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ লাইনটি চালু হয়। যেকোনো বিপদে মানুষ এই নম্বরে কল করতে পারবেন।এতে সাড়া মিলছে বেশ। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কল করছেন মানুষ। পুলিশের পক্ষ থেকেও যতটা সম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।  ১৩ ডিসেম্বর রাত ১২টায় ৯৯৯-এ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে একটি কল আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি জানান, ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে তার পরিবার। ঘটনাটি তার বাড়ির পাশেই। ৯৯৯-এর কল টেকার (ফোন গ্রহীতা) পরিচয় গোপন রাখা ওই ব্যক্তির ফোনের ব্যাপারে দ্রুত জানান স্থানীয় থানার ওসিকে। এরপর পুলিশ ফোর্স রাঙ্গুগুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর গ্রামে গিয়ে ওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করে।  ২০ ডিসেম্বর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে ৯৯৯-এ ফোন করেন রাজধানীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা তুহিন।তিনি জানান, বাসার পাশেই চার মাদক কারবারীরা অবস্থান করছে। ৯৯৯-এর কল টেকার দ্রুত চকবাজার থানায় ঘটনাটি জানান। এরপর থানার এসআই সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় ঘটনাস্থলে। দুই মাদক বিক্রেতাকে আটকও করে পুলিশ।  ২২ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে লালমাটিয়া থেকে রুবেল নামে এক ব্যক্তি ৯৯৯-এ বলেন, শ্বশুড় বাড়ির লোকজন তার স্ত্রীকে জোড় করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ৯৯৯ থেকে ফোন করে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীরকে ঘটনাটি জানানো হয়। জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে রুবেলের জোরপূর্বক স্ত্রীকে কেরানীগঞ্জ এলাকায় নিয়ে গেছে তার পরিবারের লোকজন। মোহাম্মদপুর থানার ওসি কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। কিছু সময় পর পুলিশ রুবেলের শ্বশুড়ালয়ে যায়। তবে সেখানে ঘরের দরজায় তালা ঝুলছিল। সেই তালা ভেঙে ভেতর থেকে রুবেলের স্ত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আটক করা হয় চারজনকে।এভাবেই প্রতিদিনই ৯৯৯-এ মিলছে সমাধান। গতকাল রবিবার রাজধানীর আবদুল গনি রোডে পুলিশের ক্রাইম কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারে জাতীয় জরুরি সেবা কেন্দ্রে গিয়ে জানা গেছে, ১২ দিনে সেখানে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৯টি কল এসেছে। এর মধ্যে মাত্র ৭৮১টি কলের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্যা সমাধান করতে পেরেছে ৯৯৯। এ ধরনের কলকে বলা হয় সিএসএফ (কল ফর সার্ভিস)। বাকি কলগুলো ছিল কৌতুহল ও অবাঞ্চিত। এগুলোকে বলা হয়- ক্রাইং বা ব্লাইং কল। দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অগ্নিকাণ্ড, পুলিশি ও অ্যাম্বুলেন্সের সেবা দেওয়া হলেও কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা চেয়ে ফোন আসছে। উন্নত বিশ্বের আদলে সব সেবা দিতে না পারলেও সহযোগীতার চেষ্টা করেন ৯৯৯ কর্মীরা। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কলের কারণে সেবার মান কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।  কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ৯৯৯-এ কল এসেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৯৭৬টি। এর মধ্যে মাত্র ৭৬৯টি ফোনকলের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে গতকাল বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত আট হাজার ১৯টি কল আসে। এর মধ্যে মাত্র ১২টি কলের সেবা দিতে পেরেছেন কেন্দ্রের কর্মীরা। কেন্দ্রে এখন ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মীও কাজ করছেন। প্রথম ১১ দিনে ফোন করে অবাঞ্চিত কথা বলেছেন প্রায় ৩৮ হাজার ব্যক্তি। প্রায় ৩০ হাজার ফোন থেকে যাচাই করা হয়েছে ৯৯৯ চালু আছে কিনা। আর প্রায় ২২ হাজার ফোন থেকে মিসকল দেওয়া হয়েছে। তবারক হোসেন বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত দ্রুত অগ্নিকাণ্ড নির্বাপন, ছিনতাইকারী ও ডাকাত ধরতে অভিযান, দাম্পত্য কলহে নির্যাতন প্রতিরোধ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের মতো সেবা দিতে পেরেছি। অকারণে কল করে আমাদের নম্বর ব্যস্ত রাখলে আরেকটি জরুরি সেবা পেতে ভুক্তভুগী মানুষের দেরি হবে। সচেতনতা বাড়লে এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে আমরা মনে করি। ’