৮৭ বছরের ইতিহাসে‌ এবার মৌলভীবাজার টাউন ঈদগাহে সুনশান নিরবতা

121
gb
4

ঈদ মানে আত্মার পরিশুদ্ধি, ধনী-গরিব,উঁচু-নিচু সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সৌহার্দ্য ও সংহতি প্রকাশের এক উদার উৎসব। এদিনে সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের অনুগ্রহ দ্বারা বারবার ধন্য করেন। সে জন্যই মুসলমানরা ঈদগাহে সকলে এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করেন। মৌলভীবাজার টাউন ঈদগাহেও যুগ যুগ ধরে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘ সাতাশি বছরের ইতিহাসে‌ এবার মৌলভীবাজারটাউন ঈদগাহে সুনশান নিরবতা। যেখান মুসল্লিদের ঢলে মুখরিত হয়ে থাকতে সেখান আজ স্তব্ধ।

ইতিহাস খ্যাত জনপদ মৌলভীবাজার শহর। এই শহরেই রয়েছে শাহ মোস্তফা (রঃ) এর মাজার। মাজারের পাশেই ১৯৩২ সালে স্থাপিত হয় মৌলভীবাজারের হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রঃ) টাউন ঈদগাহ মাঠ। ঐতিহাসিক এ ঈদগাহে ১৯৩৩ সাল থেকে শুরু হয় ঈদের জামায়াত।

৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা প্রতিকুলতায় ব্যাহত হয়নি ঈদের জামায়াত। প্রবীন ও বিশিষ্টজনরা জানান মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারই সেই ঈদগাহে ঈদের জামায়াত হয় নি।

মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান জানান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে টাউন ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামায়াত হয় নি। প্রতিবছর ঐতিহ্য অনুযায়ী পৌরসভার আয়োজনে টাউন ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। শহর ও শহরের আশপাশের মুসল্লীদের সুবিধার জন্য ধারাবাহিক ভাবে এ ঈদগাহে প্রতিবছর তিনটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদগাহ বা খোলা মাঠে ব্যাপক লোক সমাগমে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। তাই এবার টাউন ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামায়াতের আয়োজন করা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার ঈদগাহ বা খোলা জায়গার বদলে বাড়ির কাছে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। সে অনুযায়ী শহরে পাড়া মহল্লা ও গ্রামের বিভিন্ন জামে মসজিদে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য জেলাবাসীকে অনুরোধ করছি। তিনি বলেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদগুলোতে ঈদের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

মৌলভীবাজার শহরের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহর বংশধর সৈয়দ শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, ১৯৩২ সালে খান বাহাদুর আব্দুল মজিদ কাপ্তান মিয়ার ছেলে ও ভাতিজারা মিলে এই ঈদগাহ নির্মাণ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ মোঃ মকছুদ, সৈয়দ মাহমুদ, সৈয়দ আহমদ মোস্তফা প্রমুখ। সৈয়দ আবু তৈয়্যব-সৈয়দ আবু ওয়াছের ওয়াক্বফ এস্টেটে ৪৫ শতক জমির ওপর ঈদগাহটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে তা বর্ধিত হয়েছে। ১৯৩৩ সাল থেকে শুরু হয় ঈদের নামাজ। প্রথম ঈদের নামাজ পরিচালনা করেন (ইমামতি করেন) বালিকান্দির বাসিন্দা মৌলভী সৈয়দ নজিবুদ্দিন আহমদ।

ঈদগাহে শহরের বাসিন্দা ও আশেপাশে এলাকা- খলাপাড়া, সুলতানপুর, কাজিরগাঁও, দর্জিমহল, গোবিন্দ্রশ্রী, ধরকাপন, বালিকান্দি, বড়হাট, হিলালপুর, বর্ষিজোড়া, জগন্নাথপুর ইত্যাদি এলাকার লোকজন ঈদের নামাজে শরীক হতেন।

মৌলভীবাজার শহরের দরগাহ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহীম জানান, ৮৭-৮৮ বছরের ঐতিহ্যবাহি এ ঈদগাহ। স্মরণকালে কোনো বার ঈদের জামায়াত বন্ধ হয়নি। এ বারই প্রথম বারের মতো এই ঈদগাহে মাঠে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় নাই।

লেখক ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার ।

সংগ্রহঃসিলেটভিউ২৪ডটকম

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন