দেশের রাজনীতি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে : ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক

95
gb

 

দেশের রাজনীতি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে মন্তব্য করে সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, আজকাল দুটি শব্দ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। কথার ফাঁকে যেকোনো প্রসঙ্গে এই শব্দগুলোর উল্লেখ প্রায়ই শোনা যায়। দুঃখের বিষয় হলো, অনেককে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে ঠিক এর বিপরীত কাজ করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) তোপখানার নির্মল সেন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকারের পরিচালনায় ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে দায়িত্ব পালনকারী প্রধান সেনাপতি, উপপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারদের স্মরণে স্মরণে ও বিজয় দিবস ২০১৯ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সেক্টর কমান্ডাররা ১৯৭১ সালে ৯ মাসের যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই বাংলাদেশের আদর্শ, শোষণ-শাসন, নির্যাতনমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, আইনের শাসনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, এই আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং বিরোধী দলেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। তবেই স্বার্থক হবে আজকের এই আলোচনা সভার।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এখনও পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয় নাই। এক সাগরের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশে অনেকেই আজ আমাদের ওপরে জমিদারি মনোভাব দেখায়, যা সত্যিই বড় কষ্টের। সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা থাকলেও-বাস্তবে তার বাস্তবায়ন পরিপূর্ণভাবে হচ্ছে না। দেশের রাজনীতি ক্রমেই অধঃপতিত হচ্ছে। তবে এত কিছুর পরেও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে আমাদের দেশে। আমার বিশ্বাস জনগণ পরিবর্তন আনবে। সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির আসল সমস্যা নিহিত রাজনৈতিক দলগুলোর সংকীর্ণতা ও ক্ষমতালিপ্সার কারণে যে আদর্শে বলীয়ান হয়ে আমরা এক ক্ষমতাধর ঔপনিবেশিক শক্তিকে ভেঙে খানখান করে দিয়েছিলাম, সে আদর্শ, ঐক্য তারা ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। অনেকেই আজ বলে থাকে, বর্তমানে রাজনীতি এক জঘন্য কৌশল। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ এখন মোটামুটি উন্নত। বহু ত্যাগ ও রক্ত দিয়ে পাওয়া সুন্দর স্বাধীন বাংলাদেশে আজ কেবলই গণ্ডগোল আর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। দরকার রাজনৈতিক ঐক্য।

সভাপতির ভাষণে এম.এ জলিল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলা, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী ও তাজউদ্দিন আহমেদ এর আকাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদেরকে ভাষায় পারদর্শী হতে হবে এবং প্রাইমারী শিক্ষা স্তরে বাংলা, ইংরেজী, আরবী ও যোগ-বিয়োগ-ভাগ-পূরণ শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে জাতি হবে শিক্ষিত জাতি। এই শিক্ষার মাধ্যমে যারা বিদেশে যাবেন যেদেশেই যান না কেন তাদেরকে আর কেউ নির্যাতন করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, দেশকে উন্নত পরিবেশের বানাতে হলে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার ঘোষিত একটি বাড়ি একটি খামার কর্মসূচিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা ঋণ প্রকল্প চালু করতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে আজকের এই আলোচনা সভার।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, বাংলাদেশের ডেপুটি এটর্নী জেনারেল এড. নজরুল ইসলাম, ঢাকা বারের সহ সভাপতি এড. আহসান তারিক, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা’র যুগ্ম মহাসচিব মো. আব্দুল হাই মানিক, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম মোস্তফা কামাল, আওয়ামী নারীনেত্রী লিজা রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন