আর কবে ভাতার কার্ড পাবেন অন্ধ রুপিয়া খাতুন!

155
gb

শাহীন গোলদার,সাতক্ষীরা
আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবেন রুপিয়া খাতুন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ৭৭ পেরিয়েছে তার বয়স। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৫ বছর আগে,তার দুই ছেলেও মারা গেছে এক যুগেরও বেশি সময় আগে। চোখে দেখতে পান না প্রায় দেড় যুগ আর কানে শোনে না ১৫ বছরেরও অধিক।
কিন্তু এতো গুলো সমস্যাও একটা ভাতার কার্ড দেওয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করেননি স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। তাই রুপিয়া খাতুন আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসহায় জীবন-যাপন করছেন।
রুপিয়া খাতুন এখন ঠিকঠাক হাঁটতেও পারেন না। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে। তার মৃত ছেলেদের স্ত্রী ও নাতীদের সাথে থাকেন। নাতীরা চাষাবাদ করে সংসার চালান। কোন রকমে দিন চলে তাদের। এর মধ্যে দাদির জন্য ওষুধ কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে তাদের জন্য।
রুপিয়া খাতুন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
রুপিয়া খাতুনের নাতী মো. জয়নাল আবেদিন জানান,তার দাদির অনেক বয়স হয়েছে। সবসময়ই নানারকম রোগে-শোকে ভোগেন। তার জন্য ওষুধ কেনা লাগে। আবার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কিছু খেতে চান কিন্তু অর্থাভাবে সব সময় কিনে দিতে পারিনা এজন্য খুব খারাপ লাগে। তার যদি একটা ভাতার কার্ড থাকতো তাহলে অন্তত তার ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন চাওয়া পূরণ করতে পারতাম।
রুপিয়া খাতুনের পুত্রবধূ রাহিলা খাতুন বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর হলো আমার শ্বশুর মারা গেছেন। কিন্তু আমার শাশুড়ি একটা বিধবা ভাতার কার্ড পাননি। শ্বাশুড়ি কানে শোনেন না, চোখেও দেখতে পান না দীর্ঘদিন তবুও কোন কার্ড তার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় রাজনীতি, দলাদলির কারণে এতোদিন তিনি কার্ড পাননি। আমরা আগেও যোগাযোগ করেছি। ছবি চেয়েছিলো ছবি দিয়েছিলাম কিন্তু মেম্বর-চেয়ারম্যান কার্ড দেননি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (সদস্য) আবুল কাশেম জানান,আসলে এতোদিন উনার আইডি কার্ড আমরা হাতে পায়নি। তাই ভাতার কার্ড করে দিতে পারেনি। মূলত তার আইডি কার্ড হারিয়ে গিয়েছিলো এজন্য সমস্যা হয়েছিলো। তবে নতুন করে সে স্মার্ট কার্ড পেয়েছে এবং আমি তার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি।
কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, কয়েকদিন আগে আমি তার আইডি কার্ডের কপিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেয়েছি। এবার নতুন কার্ড আসলেই তার কার্ড হয়ে যাবে।