মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতেই বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা : খন্দকার শামসুল আলম দুদু

122
gb

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. খন্দকার শামসুল আলম দুদু।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী মুজিব নগর সরকাররের উপ-রাষ্ট্রপতি সৈদয় নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী এম তাজউদ্দীন আহমেদ, মন্ত্রী এম মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামান এই জাতীয় চারনেতাকে ১৯৭৫ সনের ৩রা নভেম্বর জেলা খানায় নির্মমভাবে হত্যা করে।

শরিবার (২ নভেম্বর) তোপখানার সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে জেল হত্যা দিবস স্মরণে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের শোষন শাসন নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই ঐক্যবদ্ধ জাতিই বঙ্গবন্ধুর নেতত্বে ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই বাংলাদেশ যারা মেনে নিতে পারে নাই তারাই ১৯৭৫ সনের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে ও ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শকে ধ্বংস করতে চেয়েছি। কিন্তু বাঙালি জাতি তা হতে দেয়নি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্ব নিয়ে আবার জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে, ৭১ এর ঘাতকদের বিচার চলছে, সীমান্ত সমস্যা সামাধান হয়েছে এবং সমুদ্র সীমানার বিজয় অর্জন হয়েছে। আমরা এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে চাই এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মুক্ত উন্নত পরিবেশের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকবো।

জাতীয় গণতান্ত্রি লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দেশীয় সংস্কৃতিক পরিষদ সভাপতি এডভোকেট গৌরঙ্গ চন্দ্র কর, জাগো গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ ন্যাপের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম মোস্তফা কামাল, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মীজু, বরিশাল বিভাগ সমিতির অন্যতম নেতা শহীদুন্নবী ডাবলু, সাবেক বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও অবঃ লেঃ কর্ণেল আব্দুল জলিল, নারীনেত্রী শেলি বেগম, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, রাজনীতি যখন আদর্শচ্যুত, পথভ্রান্ত হয়; সেখানে যখন ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা বড় হয়ে ওঠে, তখনই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটনা অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা রাজনীতির ইতিহাসের এক কলঙ্ক। জেলা হত্যা অসুস্থ ও জনবিরোধী রাজনীতির বহি:প্রকাশ। একটি আদর্শকে হত্যা করার জন্যই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি শক্তি ঘাতকদের সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জেলখানার হত্যার বিচার হয়েছে কিন্তু যারা কুশুলব ছিলেন তাদেরকে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আর যদি আমরা মহাজোট সরকার এই কুশলীবদের খুঁজে বের করতে পারি তবেই স্বার্থক হবে আজকের আলোচনা সভায়।

সভাপতির ভাষনে এম এ জলিল বলেন, বঙ্গবন্ধু একান্ত সহচর যে চার নেতা ছিলেন তারা হলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম তাজউদ্দীন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এইচ এম কামরুজ্জামান। এই চারনেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে প্রবাসী মুজিবনগর সরকার গঠন করেছেন ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন তার ফলস্বরূপ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমরা এই চারনেতা কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো এবং তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করবো ।