বিয়ানীবাজার কুড়ারবাজারে কিশোরী ধর্ষণঃ ৩দিন পর থানায় মামলা দায়ের

263
gb
মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার।। জিবি নিউজ।।
বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের পালোকুনা গ্রামে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনার ৩ দিন পর গতকাল বিয়ানীবাজার থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। ধর্ষিতা কিশোরীর ভাই আমিন হোসেন বাদী হয়ে থানায় ধর্ষক মিনহাজকে একমাত্র আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ভিকটিমের জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করানোর প্রস্তুুতি নিচ্ছে। ওসিসি থেকে ছাড়পত্র দিলেই ভিকটিমকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে জবানবন্দি রেকর্ড করানোর ব্যবস্থা করবে। এদিকে পুলিশ মামলা রেকর্ডের পর থেকে আসামী গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোন সময় পুলিশের খাঁচায় আসামী ধরা পড়বে এমনটাই জানিয়েছেন ওসি অবনী শংকর কর।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি অবনী শংকর কর জানিয়েছেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের আঙ্গুরা (পালোকুনা) গ্রামের ১৩ বছরের কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে এ সংবাদ পুলিশের কানে এলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ খোঁজ খবর নেয়। পরবর্তীতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভিকটিমের সাথে কথা বলেন এবং মামলা দায়েরের জন্য তার অভিভাবকদের বলেন। প্রথমে ভিকটিমের পক্ষে মামলা না করার জন্য বলা হলেও পরবর্তীতে আইনী বিষয়টি অবগত হয়ে ভিকটিমের ভাই আমিন হোসেন বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৭, তারিখ-১৭/০৮/২০১৯ইং।
মামলায় আসামী করা হয়েছে মৃত আব্দুল খালিক এর পুত্র মিনহাজ উদ্দিনকে।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি তদন্ত জাহিদুল হক জানিয়েছেন, আসামী মিনহাজকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৪ অগাষ্ট বুধবার সকালে বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ার বাজার ইউনিয়নের আঙ্গুরা (পালোকুনা) গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারের ১৩ বছর বয়সী কিশোরী পুকুরে গোসল করতে গেলে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর মিনহাজ তাকে জোরপূর্বক মুখ চেঁপে পার্শ্ববর্তী ঘরে নিয়ে যায়। শিশুটি দীর্ঘ সময় বাহিরে থাকায় তার বোন তাকে খুঁজতে বের হন এবং এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী ঘরে তার ঘুঙ্গানীর আওয়াজ শুনে চিৎকার করলে ধর্ষক মুমুর্ষ অবস্থায় শিশুটিকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে বিয়ানীবাজার সরকারী হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ধর্ষিতা শিশুর জবানবন্দি নিয়ে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ধর্ষিতা শিশুটি ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পু’লিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ধর্ষণ ঘটনার পর লন্ডন থেকে এক প্রবাসী বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায় সে জন্য কলকাটি নাড়ছেন। একই সাথে ধর্ষিতার পরিবারকেও ম্যানেজ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেন। সূত্রটি জানায়, ধর্ষিতার পরিবারকে ম্যানেজ করতে স্থানীয় প্রবাভশালীদের ব্যবহার করে নানা হুমকীর পাশাপাশি আর্থিক সুযোগ সুবিধারও আশ্বাস দেন।
gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More