ধানের ন্যায্যমূল্যে পাওয়ায় কৃষকেরা আনন্দে উৎফুল্ল

155

রোমানা আক্তার।। জিবি নিউজ।।

বাজারে ধানের দাম মণ প্রতি ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায় বিক্রি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সিন্দুরখান ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কৃষক হানিফ উল্যা। এ বছর তার ৩ বিঘা জমিতে ফলন হয়েছিলো ৯০ মণ ধান। কিন্তু সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিনপাত করতে পেরে অনেকটাই খুশি তিনি। তার মতো অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে নিয়ম অনুযায়ী ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষক বান্ধব এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সরাসরি সরকারের কাছে খোলা বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ধান বিক্রি করার লাভের পাশাপাশি কৃষকদের হয়রানিও অনেকটা কমেছে। তারা বলেন, এক হাতে ধান বিক্রি করেছি, আরেক হাতে ন্যায্য দামের চেক পেয়েছি। এতে কোন ধরনের ভোগান্তি হয়নি। সময় মতো ধান বিক্রির টাকা পেয়ে তাদের অনেকের উপকার হয়েছে।

এদিকে ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক মো. সামিদ মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এতে করে বাইরের বাজার থেকে দাম বেশি পেয়েছেন। গ্রামে পাইকাররা মোটা চিকন ভেদে মণপ্রতি চার থেকে পাঁচশ’ টাকা দামে ধান কিনেন। যে কারণে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের মূলধন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। আর এখন সরকারের কাছ থেকে মণপ্রতি ধানে ১’ হাজার ৪০ টাকা পেয়েছেন। এতে করে এমন কর্মসূচী অব্যাহত থাকলে কৃষকদের মাঝেও দিন দিন আগ্রহ বাড়াবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, এবছর ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে। একটানা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা চলবে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার সরকারি এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৪০ টাকা মন দরে এবছর উপজেলায় দু’দফায় ৬’শ ৯৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারনে ধান সংগ্রহ অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছিলো। তবে গত ৩/৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্রতিদিনই উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকরা ঠেলাগাড়ি, টমটম ও পিকআপে করে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্র অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন সুইটি জানান, সরকারি ভাবে কৃষকদের তালিকার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। উপ-সহকারীরা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সহযোগীতায় কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছেন। কিন্তু একাধিক ব্যাংক না থাকায় একমাত্র সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে একসাথে বিপুল সংখ্যাক কৃষকদের একাউন্ট করতে গিয়ে তাদেরকেও অনেকটা হিমশিম খেতে হয়েছে। এনিয়ে কৃষকদের শুরুতে কিছুটা ভোগান্তি পেতে হয়েছে।

তবে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের আন্তরিকতায় ইতোমধ্যে তালিকাভূক্ত কৃষকরা একাউন্ট খোলায় ধান বিক্রির সাথে সাথে তাদের ধানের দাম নিজেদের একাউন্টে পৌছে যাচ্ছে। ফলে সরকারের এই কৃষক বান্ধব কর্মসূচী নিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে অনেকটা আশার সঞ্চার হয়েছে।

রোমানা আক্তার।।শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি।। জিবি নিউজ।।

বাজারে ধানের দাম মণ প্রতি ৫’শ থেকে ৬’শ টাকায় বিক্রি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সিন্দুরখান ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের কৃষক হানিফ উল্যা। এ বছর তার ৩ বিঘা জমিতে ফলন হয়েছিলো ৯০ মণ ধান। কিন্তু সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করায় পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দিনপাত করতে পেরে অনেকটাই খুশি তিনি। তার মতো অধিকাংশ প্রান্তিক কৃষক সরকারি খাদ্য গুদামে নিয়ম অনুযায়ী ধান বিক্রি করতে পেরে কৃষক বান্ধব এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষকদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, সরাসরি সরকারের কাছে খোলা বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে ধান বিক্রি করার লাভের পাশাপাশি কৃষকদের হয়রানিও অনেকটা কমেছে। তারা বলেন, এক হাতে ধান বিক্রি করেছি, আরেক হাতে ন্যায্য দামের চেক পেয়েছি। এতে কোন ধরনের ভোগান্তি হয়নি। সময় মতো ধান বিক্রির টাকা পেয়ে তাদের অনেকের উপকার হয়েছে।

এদিকে ধান বিক্রি করতে আসা উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক মো. সামিদ মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি সরকারের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এতে করে বাইরের বাজার থেকে দাম বেশি পেয়েছেন। গ্রামে পাইকাররা মোটা চিকন ভেদে মণপ্রতি চার থেকে পাঁচশ’ টাকা দামে ধান কিনেন। যে কারণে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের মূলধন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়তেন। আর এখন সরকারের কাছ থেকে মণপ্রতি ধানে ১’ হাজার ৪০ টাকা পেয়েছেন। এতে করে এমন কর্মসূচী অব্যাহত থাকলে কৃষকদের মাঝেও দিন দিন আগ্রহ বাড়াবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জানান, এবছর ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে। একটানা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তা চলবে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করার সরকারি এ সিদ্ধান্তে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি তাদের কাছ থেকে ২৬ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৪০ টাকা মন দরে এবছর উপজেলায় দু’দফায় ৬’শ ৯৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারনে ধান সংগ্রহ অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছিলো। তবে গত ৩/৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় প্রতিদিনই উপজেলার হাওর অঞ্চল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকরা ঠেলাগাড়ি, টমটম ও পিকআপে করে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্র অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলুফার ইয়াসমিন সুইটি জানান, সরকারি ভাবে কৃষকদের তালিকার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। উপ-সহকারীরা স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সহযোগীতায় কৃষকদের তালিকা তৈরি করেছেন। কিন্তু একাধিক ব্যাংক না থাকায় একমাত্র সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে একসাথে বিপুল সংখ্যাক কৃষকদের একাউন্ট করতে গিয়ে তাদেরকেও অনেকটা হিমশিম খেতে হয়েছে। এনিয়ে কৃষকদের শুরুতে কিছুটা ভোগান্তি পেতে হয়েছে।

তবে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের আন্তরিকতায় ইতোমধ্যে তালিকাভূক্ত কৃষকরা একাউন্ট খোলায় ধান বিক্রির সাথে সাথে তাদের ধানের দাম নিজেদের একাউন্টে পৌছে যাচ্ছে। ফলে সরকারের এই কৃষক বান্ধব কর্মসূচী নিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে অনেকটা আশার সঞ্চার হয়েছে।