১০০ কোটি ডলার ওডিএ, রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তার আশ্বাস

158

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া দুই দেশ সাংস্কৃতিক বিনিয়োগ কর্মসূচিও সই করেছে। গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োনের নেতৃত্বে দুই দেশের বৈঠকের পর কর্মসূচি ও এমওইউগুলো সই করা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে একটি হোটেলে বাংলাদেশ-কোরিয়া বিজনেস কাউন্সিলে কোরীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে তাঁর দেশ বাংলাদেশ-কোরিয়া সম্পর্ককে আরো জোরালো করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স (ওডিএ) হিসেবে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা এ দেশে জ্বালানি, অবকাঠামো, রেল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিনিয়োগ করতে চায়।

তিন দিনের সফরে গত শনিবার বিকেলে ঢাকায় আসেন লি নাক-ইয়োন। সফরসূচি অনুযায়ী, গতকাল সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি।

সাভার থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লি নাক-ইয়োন স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। পরে তিনি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নাগেশ্বর চাপা ফুলের একটি চারা রোপণ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) পুরনো জোনে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন একটি কারখানা পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি ঢাকার মুগদাপাড়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যায় তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আজ সোমবার সকালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর সকাল ১১টায় তিনি বাংলাদেশ ছাড়বেন