রিফাতের স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল নয়ন

243

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। এ ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

হত্যার শিকার হওয়ার দুই মাস আগে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বিয়ে করেন রিফাত। বিয়ের আগে থেকেই মিন্নিকে উত্ত্যক্ত করে আসছে ঘাতক নয়ন বন্ড। একপর্যায়ে মিন্নিকে হত্যার হুমকিও দেয় নয়ন। এমনটি জানিয়েছেন নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি।

বুধবার এ হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন স্বামী হারা মিন্নি। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সেই নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নববধূ মিন্নি।

মিন্নি জানান, রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে তার বিয়ে হয়। তবে এর প্রায় বছরখানেক আগে থেকেই সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড তাকে উত্ত্যক্ত করত। মিন্নি বলেন, ‘রিফাতের সঙ্গে আমার দুই থেকে আড়াই বছরের সম্পর্ক। আর এই নয়ন আমাকে ডিস্টার্ব করে এক বছরের মতো হয়েছে। ও আগে অল্প বিরক্ত করত, তার পর দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। ফোনে কথা বলতে হইবে, তারপর আমি রিকশায় গেলে রিকশায় লাফ দিয়ে উঠত। এক জায়গায় গেলে ওই জায়গা গিয়ে ডিস্টার্ব করত। ওই জায়গায় গিয়ে হুমকি-ধামকি দিত।’

মিন্নিকে নয়ন মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এমনটি জানিয়ে মিন্নি বলেন, নয়ন বলত তার সঙ্গে কথা না বললে মাইরে ফালাবে। আমাকে জানে শেষ করে ফেলবে। পরে আমি অনেক ভয় পাই। আমার বাসার সবার সঙ্গে শেয়ার করি। পরে আমার আব্বু আমার কাকাদের সঙ্গে আলাপ করে। পরে রিফাতের সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়।’

বিয়ের আগে নয়নের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা বা আর কেউ বিরক্ত করত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রিফাতের স্ত্রী বলেন, ‘কোনো সম্পর্ক ছিল না। ওই আমাকে হুমকি-ধামকি দিত, বিরক্ত করত। আমি ভয়ে কারও কাছে বলতাম না, পরে আমি বলছি।’

রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবি করে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমি নয়ন, রিফাত ফরাজী, রেশান ফরাজী আরও ওই জায়গায় যারা ছিল প্রত্যেকের ফাঁসি চাই।’

নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান রিফাত। কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ আরও দুই যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা। রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নি দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামানো যায়নি। তারা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন রিফাত শরীফকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যায় অংশ নেয় নয়ন বন্ডসহ ৪-৫ জন। রিফাতের সঙ্গে দুই মাস আগে পুলিশলাইন সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকেন।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।