অবরোধ না তুললে বন্ধই থাকবে হরমুজ প্রণালি : হুঁশিয়ারি ইরানের

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি চালু করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো ‘অনেক ফাঁকফোকর এবং মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে’। তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় পৌঁছাতে আমরা এখনো অনেক দূরে।

 

 

উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে আলোচনায় তেহরানের পক্ষ থেকে তিনি অন্যতম আলোচক। বর্তমানে কার্যকর থাকা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা, যদি তা নবায়ন না করা হয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা না করতে তেহরানকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এতে বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম কমে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে ইরান আবারও প্রণালিটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ না তুলে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অবশ্যই সীমিত করা হবে।

 


 

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় জানিয়েছেন, দেশের নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবেলায় প্রস্তুত।

শনিবার প্রণালিটি সাময়িকভাবে খোলার পর কিছু তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করলেও পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক জাহাজ ফিরে যায়। দিনের শেষে প্রায় কোনো জাহাজই ওই পথে চলাচল করতে দেখা যায়নি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।


 

এদিকে, কূটনৈতিক পর্যায়ে মিশর ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত চুক্তি অর্জনের আশা করছি।’

 

আলোচনার প্রধান বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আলোচনায় ওঠেনি।

পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন