পুন্ড্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর সংকট: দুর্নীতিতে অভিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ, সরকারি অনুমোদন-অনুমতি ছাড়াই দেশত্যাগ

বগুড়াস্থ পুন্ড্রা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (PUB)-এ সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও অনিয়ম নিয়ে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্রের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য, প্রশাসনিক দুর্বলতা, এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; বরং এটি বৃহত্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসনে-আরা বেগম উপাচার্যের কাছে একটি শোকজ নোটিশ জারি করেন (রেফারেন্স: PUB/২০২৫/২৮৯১; তারিখ: ০১/১২/২০২৫)। নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নোটিশটি একটি প্রাথমিক প্রশাসনিক ধাপ, যার পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

এছাড়া, উপাচার্যের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলার বিষয়েও অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত হন এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করে বিদেশে পাচার করেন।

পরবর্তীতে, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ড. চিত্তরঞ্জন মিশ্র স্বেচ্ছায় উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ দাখিল করেন । পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে দায়িত্ব পালন করতে অক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু মহলের অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।

পুন্ড্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এখন সময়ের দাবি।

সরকারের অনুমোদন-অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগের পিছনের উপাচার্যের সফরের কি রহস্য লুকিয়ে আছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নীতিমালা লঙ্ঘন, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ এর অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. হোসনে-আরা বেগম পদত্যাগ করার পর উপাচার্য কে তার স্বপদে ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর কারণ এতে তার ব্যবসায়িক ও ব্যক্তি স্বার্থ রয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন