ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিল ইরানি এজেন্টরা। তবে শেষ মুহূর্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এক অভিনব ছদ্মবেশী অভিযানে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা ‘সিক্রেট সার্ভিস’।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনকালে ট্রাম্প যে হোটেলের কোন তলায় অবস্থান করছেন, তার নিখুঁত তথ্য পৌঁছে যায় ইরানি এজেন্টদের হাতে। এমনকি ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান লক্ষ্য করে জমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতিও ছিল তাদের। এ ছাড়া সম্মেলনস্থলের খুব কাছে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজনকেও চিহ্নিত করেন গোয়েন্দারা।
হুমকি এতটাই মারাত্মক ছিল যে সিক্রেট সার্ভিস কৌশল পরিবর্তন করে—প্রথমে ট্রাম্পকে সবার সামনে তার ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে তোলা হয়, এরপর গোপনে একটি ক্যাটারিং কন্টেইনারে লুকিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের করে অন্য একটি সামরিক বিমানে চড়িয়ে তাকে দ্রুত তুরস্ক থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মূল ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানটি যথারীতি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। তবে মূল বিমানে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই গোপন উদ্ধার পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ সাংবাদিক ও কর্মীদের না জানিয়েই পুরো বিমানটিকে এক ধরণের ‘নকল লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
Your browser does not support the video tag.
ট্রাম্প পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর আবার ওই বিমানে যোগ দেন, যেন বাইরে থেকে মনে হয় তিনি পুরো পথ একই বিমানেই ভ্রমণ করেছেন।
বিমানের অন্য যাত্রীদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে এভাবে কেবল প্রেসিডেন্টকে আলাদা করে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে সব সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনা অনুসারেই কাজ করেছেন এবং বিমানে থাকা যাত্রীরা মারাত্মক কোনো বিপদের মুখে ছিলেন না।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন