বুলবুল আহমেদ,
নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে উপজেলার করগাও ইউনিয়নে বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে বিরোধের জেরধরে রবিবার সংঘর্ষ চলাকালে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২৩ বছর বয়সী কলেজ ছাত্র মঞ্জুর মিয়া নিহত! আরো কমপক্ষে অর্ধশতাধীক নারী পুরুষ আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছেন।
সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার করগাওঁ ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের পুত্র খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে ঘর-বাড়ি তৈরী করে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এর মধ্যে একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পুত্র বাবুরু মিয়ার পুত্র মনিরুজ্জামান ও হেলাল মিয়ার লোকজন উক্ত জায়গা তাদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে এনিয়ে ূুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্রধরে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জানানের নেতৃত্বে দলবন্ধ লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উক্ত জমি জবর দখল করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের আঘাতে কলেজ ছাত্র খলিলুর রহমানের পুত মঞ্জুর মিয়াসহ কমপক্ষে শতাধিক লোকজন আহত হন। আহতদেরকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কলেজ ছাত্র মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মঞ্জুর মিয়া নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র। অন্যান্য আহতরা হলেন, মনিরুজ্জামান এর পুত্র সাফি মিয়া (৩২), আনোয়ার মিয়ার পুত্র মুজিবুর রহমান (৩০), রমিজ উল্লার পুত্র শামিম মিয়া (৪৮), নিহতের ভাই মামুন মিয়া (৩০), আব্দুল্লাহ পুত্র জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৭), ইমন মিয়া (১৮), কাউছার মিয়া (২৫), জুয়েল আহমেদ (৩৩), মামুন মিয়া (২৭)। অন্যান্য আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নিহত কলেজ ছাত্রের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেন।
এ ঘটনায় ঐ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় হতে পারে বলে ধারণা করা হলে সেখানে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সূত্রে জানাযায়, এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে নিহতের বাবা খলিলুর রহমান বলেন, বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই জমিতে আমরা বসবাস করে আসছি। হেলাল ও মনিরুজ্জামানগংরা ওই জমি থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করতে দীর্ঘদিন ধরে মরিয়া হয়ে উঠে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে আসলে তাদেরকে বাধাঁ দেয়া হয়। এতেই তাদের সাথে সংঘর্ষ বাধেঁ। এক পর্যায়ে তারা আমাদের বাড়ি- ঘরে হামলা করে আমার কলেজ পড়ুয়া পুত্রকে হত্যা করলো।
তিনি কান্না জড়িত কষ্টে আরো বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে আমার পুত্র হত্যার বিচার চাই। যারা আমার ছেলেকে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে দিবালোকে চুরিঘাত হত্যা করেছে তা আমি বাবা হয়ে ধর্য্য ধরতে পারছিনা।
এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) দুলাল মিঞার সাথে কথা হলে তিনি বলেছেন, সরকারী জমি দখল-বেদখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে সকালে সংঘর্ষ হলে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে মঞ্জুর মিয়া নামের একজনকে মৃত ঘোষনা করেন ডাক্তার। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন