মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির প্রধান জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন আর আগের মতো খোলা নেই।
আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি)-এর প্রধান সুলতান আল জাবের বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল এখন পুরোপুরি ইরানের শর্তের ওপর নির্ভর করছে। এখানে রাজনৈতিক চাপও কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, 'এখন পরিষ্কার করে বলার সময় এসেছে। হরমুজ প্রণালি খোলা নয়। এখানে যাতায়াত সীমিত করা হচ্ছে। শর্ত দেওয়া হচ্ছে।
সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।'
তিনি আরো বলেন, এই প্রণালি কোনো একক দেশের তৈরি নয়। কেউ এর জন্য কেউ কোন পরিকল্পনা বা অর্থায়নও করেনি।
সিএনএন- এর প্রতিবেদন জানায়, সুলতান আল জাবের সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প ও উন্নত প্রযুক্তি মন্ত্রীও।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এখন ঝুঁকির মুখে। এই প্রণালি পুরোপুরি নিঃশর্তে খুলে দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
তার ভাষায়, 'এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক না। এতে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের মূল নীতি,নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিও অস্থির হয়ে উঠবে।'
অন্যদিকে, ইরান বলেছে ভিন্ন কথা। দেশটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতাও মানতে হবে।
যুদ্ধের আগে এই প্রণালি ছিল পুরোপুরি উন্মুক্ত একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
শিপিং কোম্পানির নির্বাহী ও বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এখনো এই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের মতে, প্রণালি নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতেই। নিরাপদ যাতায়াতের কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনাও নেই।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল প্রায় থমকে গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হতো।
এখন সেই সরু প্রণালি দুই পাশে শত শত জাহাজ অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন