যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই চুক্তি নিশ্চিত করতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এমন একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে চাইছেন, যা ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
ইসলামাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের অনুরোধেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শুধু বাড়াননি, বরং সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য খোলা রেখেছেন। এর লক্ষ্য—কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় তৈরি করা।
যুদ্ধবিরতির শেষ মুহূর্তে নয়, বরং পুরো সময়জুড়েই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং সেই যোগাযোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের একটি বৈঠকও হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কাঠামো ইরানের কাছে তুলে ধরছে এবং একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমঝোতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, এরপরই নতুন করে আলোচনা শুরুর পরিবেশ তৈরি হতে পারে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম শরঘকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় ফেরার পূর্বশর্ত হচ্ছে উত্তেজনা কমানো এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরবর্তী দফার আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইরাভানি বলেন, ইরান সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ইরানের পক্ষ থেকে শুরু হয়নি। তিনি বলেন, ইরান সংঘাত শুরু করেনি। যুক্তরাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক সমাধান চায়, আলোচনায় প্রস্তুত ইরান।
আর যদি তারা যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, সে ক্ষেত্রেও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন