সিলেটের শামসুদ্দিন হাসপাতালে ৫০, আরও ১৫টিতে ৩৫ জন ভর্তি

জিবি নিউজ প্রতিনিধি//

সিলেটে বেড়েই চলছে হামের সংক্রমণ। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সিলেট বিভাগের ১৬টি হাসপাতালে ৮৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। 


স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ১০টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ল্যাব টেস্টে হাম আক্রান্ত আরও ১ জন রোগী সনাক্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে হাম সনাক্ত হয়েছে ৩১ জনের। তবে সিলেটে টেস্টের সুযোগ না থাকায় হাম সংক্রমণ কি-না তা নিশ্চিতে ঢাকায় নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। যে কারণে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি সকল রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। 
 


যারাই উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন তাদেরকে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।


এখন পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় যে ৩০ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে হবিগঞ্জের ৫ জন, মৌলভীবাজারের ৮ জন, সুনামগঞ্জের ৭ জন ও সিলেটের ১০ জন। 

আর গেল ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তিদের মধ্যে ৫০ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া আরও ১৫টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৫ জন। 


এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি আছেন।


২ জন করে ভর্তি আছেন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।


১ জন করে ভর্তি আছেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ইউনিটকে ডেডিকেটেড করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ৪২ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোন রোগী মারা যাননি। 


সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, জানুয়ারি মাসের শুরুতে সিলেট সদর উপজেলায় ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিলেট নগরে একজন করে হাম সংক্রমিত রোগী সনাক্ত হয়। তখন অবস্থা উদ্বেগজনক ছিল না। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সিলেটে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে দু’একদিন সময় লেগে যায়। 


তিনি জানান, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ছাড়াও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২-৩টি বেড নিয়ে একেকটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগী আসলেই তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন