ইরান একাধিক ধাপে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত নাটকীয় মোড়ে এসে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত থেকে পিছিয়ে আসার কথা বলেন।
ইরান একাধিক ধাপে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার ফলে বিভিন্ন শহরে এয়ার রেইড সাইরেন বাজে। তেল আবিবের কিছু স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং উত্তর ইসরায়েলের কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান এবং ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় প্রায় সব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্প ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানানোর পরেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
তবে মঙ্গলবার পর আজ আবার যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বলেন, ‘কোনো আলোচনাই হয়নি।’ একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরো দুটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ইরানের পক্ষে তিনিই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ছিলেন।’
সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ এক্সে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।
আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে, তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে।’
ইরানের এলিট রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরু করছে এবং ট্রাম্পের কথাকে মনগড়া হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরানের লড়াইয়ের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে না।’
যদিও ট্রাম্পের বর্ণনা অনুযায়ী আলোচনা হয়েছে কি না তার কোনো তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সম্পর্কিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।
পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে ফোনালাপের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সেই সঙ্গে উইটকফ এবং কুশনারের এই সপ্তাহে ইসলামাবাদে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। হোয়াইট হাউস মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
এই যুদ্ধে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ট্রাম্পের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুমকির জবাবে ইরান বলেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের অবকাঠামোতে আঘাত হানবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে চরম বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন