জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
শিউলী, তন্ময়, মৃন্ময় ও নুরে আলম। এই চার জনের প্রতারক চক্র। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে টেলিগ্রাম একাউন্টের মাধ্যমে নারী দিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণা করছে। পুলিশ তার প্রমাণও পেয়েছে। তাই চক্রটিকে হন্য হয়ে খুঁজছে তারা। চক্রটিকে ধরিয়ে দিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশ প্রশাসন।
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানাপুলিশ সূত্র জানায়, টেলিগ্রাম একাউন্টে যুক্ত হয়ে মোগলাবাজার থানার আলমপুর মালিপুরের বাসিন্দা আবুল হাসনাতের ছেলে এম নুজহাতুল ইসলাম প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ১৯ লাখ ৯২ হাজার ২৭৩ টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মোগলাবাজার থানায় কুমিল্লা সদর চম্পকনগরের ভুইয়া বাড়ির শিপন মিয়ার মেয়ে শিউলী আক্তারসহ (৩২) চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (নং-০৬(০৮)২৫ইং) দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন গাজীপুরের নিজ মাওনা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে হৃদয় হাসান তন্ময় (২২), খুলনার পাইকগাছা থানার হোল্ডিং ৩৮৭ নং বাসার বাসিন্দা অমর কৃষ্ণ সানার ছেলে মৃন্ময় কান্তি সানা (৩০) ও কুমিল্লা দাউদকান্দি ইউনিয়নের তুলাতুলি গ্রাম ও বর্তমানে ঢাকা মিরপুর ১৩নং ওয়ার্ডের সাত্তার রোডের বাসিন্দা আনিছুর রহমানের ছেলে নুরে আলম।
থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নামেন মোগলাবাজার থানার এসআই রাজীব পাল। তিনি প্রতারক চক্রের সন্ধানে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট, এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন এবং ওই চক্রকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু ওই চক্রটি ঘনঘন স্থান বদলাচ্ছে।
সায়েমের এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতারক চক্র জেরিন নামক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে তার নিজ মোবাইল ০১৮৬৭৬৮০৭৩৪ নাম্বারের টেলিগ্রাম লিংকে জয়েন্টের জন্য অনুরোধ পাঠিয়ে প্রতারনা করে থাকে। টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশের পর গ্রুপের অ্যাডমিন রাশেদুল ইসলাম নামক অজ্ঞাতনামা বিবাদীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে প্রথমে তার বিকাশ এ্যাকাউন্ট থেকে গত বছরের ২৯ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় বিবাদীর মোবাইল 01733632257 নাম্বারের বিকাশ অ্যাকাউন্টে নগদ ৫০০ টাকা পাঠান।
এ টাকা বিকাশ নাম্বার থেকে ৮০০ টাকা ফেরত পেয়ে আশ্বস্ত হন তিনি। যার প্রেক্ষিতে বিবাদীদের মোবাইল 01733632257, 016229330393 01855914367 নাম্বারে একাধিকবার টাকা লেনদেন করেন। প্রতারক চক্র বাদীর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফোন করে বলে তাদের WITHLOCALS নামক কোম্পানীতে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অফার দেওয়া হচ্ছে। যদি উক্ত অফারে অংশগ্রহণ করার জন্য WITHLOCALS” নামক টেলিগ্রাম গ্রুপের কাষ্টমার কেয়ার আবু হুরাইয়া বাদীকে আশ্বস্ত করেন।
অজ্ঞাতনামা এই বিবাদীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে টাকা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ প্রকাশ করলে প্রতারক হৃদয় হাসান তন্ময়, পূবালী ব্যাংক লিঃ জয়না বাজায় শাখা, গাজীপুর এর অ্যাকাউন্ট নং-590901002013 প্রদান করে। পরবর্তীতে গত বছরের ১ আগস্ট হৃদয় হাসান,আবু হুরাইয়া বলে যে, অনলাইন অফারের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে পূনরায় আরো ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। বাদী সরল বিশ্বাসে পূনরায় উক্ত হৃদয় হাসান তন্ময় নামক বিবাদীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রেরণ করেন।
এই টাকা প্রেরনের পর আবু হুরাইয়া নামক অজ্ঞাপরিচয় বিবাদী তাকে পুনরায় বলে যে, অনলাইন অফারের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে তাকে পুনরায় প্রাপক মৃন্ময় কান্তি সানা, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ নিউ মার্কেট শাখা, ঢাকার এ্যাকাউন্ট নং-2751050079319, ও প্রাপক নুরুল আলম, সিটি ব্যাংক লিঃ মিরপুর শাখা, ঢাকা এর অ্যাকাউন্ট নং- 2304513648001, এবং প্রাপক শিউলি আক্তার, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিঃ কুমিল্লা শাখা, কুমিল্লা এর অ্যাকাউন্ট নং- 1941580274342 নম্বরে ১০ লাখ টাকা জমা দেন ।
বাদী সরল বিশ্বাসে পূনরায় মৃন্ময় কান্তি ছানা নামক বিবাদীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে নগদ ৩ লাখ ৯২ হাজার ২৭০ টাকা ও নুরুল আলম নামক বিবাদীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে নগদ ৫ লাখ টাকা এবং শিউলি আক্তার নামক ব্যাংক এ্যাকাউন্টে নগদ ১ লাখ টাকা প্রেরণ করেন । বিবাদীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা প্রেরনের পর ১ আগস্ট ২০২৫ রাত ১০টার দিকে আবু হুরাইয়া নামক অজ্ঞাতপরিচয় বিবাদী পুনরায় বলে যে, অনলাইন অফারের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে পূনরায় আরো ১৫ লাখ টাকা বিবাদীদের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে প্রেরন করতে হবে। বিবাদীদের আর কোন টাকা নিতে পারবে না বললে প্রতারক চক্র তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ব্লক করে দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজীব পাল জানান, প্রতারক চক্রের প্রতারণা অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ একটি নিয়মিত মামলা রুজু করে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। প্রতারক চক্রের নাম ঠিকানা সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন