কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে
বর্তমান সরকারের আমলেই যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য আইনমন্ত্রী এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। রবিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ হল রুমে কৃষক সমাবেশে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে হানিফ এ কথা জানান। শুক্রবার মসজিদে অগ্নিসংযোগ, জাতীয় পতাকার অবমাননা ও সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য জামায়াত-শিবিরকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। হরতাল প্রসঙ্গে হানিফ বলেন,বিএনপি-জামায়াতের উস্কানিতে নামসর্বস্ব ১২ দলের ব্যানারে ডাকা রোববারের হরতাল জনতা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান পত্রিকায় কল্পকাহিনী লিখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এ কারণে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো ব্যবস্থা নিয়ে থাকে তাহলে তা যথার্থই হবে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া ধর্ম নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। আসলে তারাই ধর্ম পালন করেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। সেই ব্যক্তিরা যখন ধর্মের কথা বলে তখন সন্দেহ হয় তাদের মধ্যে দূরভিসন্ধি রয়েছে। পরে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আমিনের সভাপতিত্বে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষক সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন,পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লুৎফর রহমান প্রমুখ।
কুষ্টিয়ায় ৭ জামায়াত-শিবিরকর্মী আটক
কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে
বিএনপি সমর্থিত ইসলামী সমমনা দলের ডাকা রোববারের হরতালে কুষ্টিয়ার জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করে। এদিকে হরতাল সমর্থনে পিকেটিং করার চেষ্টাকালে মিরপুর উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহফুহ আহমেদ (২৩) ও সেক্রেটারি আব্দুল আলিম রাণাকে (২৩) সহ ৭ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপুর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া বাস টার্মিনাল থেকে দূরপালার কোনো বাস ছেড়ে না গেলেও অভ্যন্তরীণ সকল রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে ট্রেন চলাচলও। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ায় আমন সংগ্রহ অভিযানে গোডাউনে ঢুকছে পুরাতন চাল!
কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে
কুষ্টিয়ার মিরপুরে আমন চাল সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আমন সংগ্রহ অভিযান চললেও গোডাউন গুলোতে অন্য মৌসুমের নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে। এসব অনিয়মের সাথে জড়িত খাদ্য কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম। পুরাতন চাল মেশিনে কালার সুটারের মাধ্যমে ঝকঝকে করে আমন চাল বলে অনায়াসে চালিয়ে দিচ্ছে মিল মালিকরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানে জেলার মিরপুর ও হালসা গোডাউনে নিন্মমানের চাল কেনা হচ্ছে। খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহরুল ইসলামকে ম্যানেজ করে মিল মালিকরা পুরাতন চাল মেশিনে কালার সুটার করে আমন চাল বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক মিল মালিক জানান, আমন সংগ্রহ অভিযান চললেও মিরপুর ও হালসা গোডাউনে কোন আমন চাল ঢুকছে না। পুরাতন চাউলকে মেশিনে দিয়ে রং পরিবর্তন করে আমন বলে মিল মালিকরা গোডাউনে পাঠাচ্ছেন। এ জন্য গোডাউন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম কেজি প্রতি ১টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে মিলাররা জানান। মিরপুরের এক মিল মালিক জানান, হালসা ও মিরপুরে আমন সংগ্রহ অভিযানের নামে যে পুরাতন নিন্মমানের চাল কেনা হচ্ছে তা কেমিষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করালেই জালিয়াতি ধরা পড়বে। দুই গোডাউন মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৯০ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল মালিকরা নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে খাজানগরের বিভিন্ন মিলে নিয়ে কালার সুটারের মাধ্যমে ঝকঝকে চকচকে করছেন। দেখে বোঝা যাবে না যে এটা পুরাতন চাল। সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আমন চাল সরবরাহের কথা থাকলেও মিল মালিকরা গোডাউন কর্মকর্তাকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে সহজেই এ কাজ সারছেন। জেলা খাদ্য অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, মিরপুর ও হালসা গোডাউনে নিন্ম মানের পুরাতন চাউল কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুজা আলমের সাথে কথা হলে জানান, আমন সংগ্রহ অভিযানের নামে যদি কোন গোডাউনে আমনের পরিবর্তে অন্য চাউলের অতিত্ব পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে গোডাউন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে কথা হলে জানান, কিছূ লোকই আছে যাদের কাজ বদনাম করা। দেশের কোন গোডাউন কর্মকর্তা পাগল নয় যে আমনের পরিবর্তে অন্য চাউল কিনবে। তিনি বলেন, পুরাতন চাউল কিনলে এক সময় এমনিতেই ধরা পড়তে হবে। কারণ এ চাল এক সময় খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে
তাং-২৪/০২/২০১৩
মোবা- ০১৭১৭০৫৮২৮৫




