যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান। শনিবার (১১এপ্রিল) মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের পথে আছেন বলে জানা গেছে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই গভীর অবিশ্বাসে আচ্ছন্ন আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় শর্ত পূরণ না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প প্রতিনিয়ত হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
গেল মঙ্গলবার ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের ১০-দফা প্রস্তাব নিয়ে গোলমাল শুরু হয়েছে।
চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর উভয় পক্ষই এর শর্তাবলি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। মতবিরোধের একটি প্রধান কারণ হলো, যুদ্ধবিরতি মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও হামলা অব্যাহত রেখেছে।
গেল শুক্রবার ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেছেন, এই মতপার্থক্য আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই তা ভেস্তে দিতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবফ বলেন, ‘পক্ষগুলোর মধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত হওয়া দুটি পদক্ষেপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তা হল লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা শুরুর আগে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।’
আলোচনার আগে অব্যশই উক্ত দুই বিষয় সুরাহা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সঙ্গে গালিবফও উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ড সতর্ক করে বলছে, আমেরিকা ও ইসরায়েল বারবার কথা দিয়ে কথা রাখেনি। তাই তারা এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি তৈরি এবং যেকোনো সময় পাল্টা আক্রমণ করতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করে নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য আমরা জাহাজগুলোতে এ যাবৎকালের সেরা অস্ত্র বোঝাই করছি, যা আগের চেয়েও উন্নত মানের।’
“যদি আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে এসব অ্যাত্যাধুনিক মরণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে এবং খুব কার্যকরভাবেই ব্যবহার হবে,” তিনি যোগ করেন।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন