সিলেটে শেষ হয়নি ২২৭ কোটি টাকার কারাগারের কাজ

221
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক :: দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ। চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই সিলেট নগরীতে থাকা পুরনো কারাগারের কয়েদিদের শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগারে স্থানান্তরের কথা বলেছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাদাঘাটে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণকাজ শেষ হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।

জানা যায়, প্রায় একর উপর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১১ সালের ১১ আগস্ট। ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন করে সময় বেঁধে দেয়া হয় ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাবিব কন্সট্রাকশন, কৈশলী কন্সট্রাকশন, জেড কন্সট্রাকশন, ঢালি কন্সট্রাকশন ও জেবি কন্সট্রাকশন এ সময়ের মধ্যেও শেষ করতে পারেনি কাজ। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরেক দফা বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ। এবার গণপূর্ত বিভাগকে কাজ শেষ করতে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এরপরও কাজ শেষ করতে না পারায় চলতি ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয় প্রকল্পের। কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যেও শেষ হচ্ছে না কাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরতলির বাদাঘাটে নির্মিতব্য সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণকাজ বর্তমানে শেষের দিকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েদি ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ভবন, মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল, সীমানাপ্রাচীর, ওয়াচ টাওয়ারসহ প্রকল্পের প্রায় সকল স্থাপনার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (এসটিপি) নির্মাণকাজ চলছে।

তবে নতুন ওই কারাগারে কয়েদি স্থানান্তরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাস সংযোগ না থাকা। এখনও পর্যন্ত নতুন ওই কারাগারে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়নি। তবে সংযোগের জন্য পেট্রোবাংলা থেকে অনুমতি মিলেছে। বর্তমানে সংযোগ প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলার আবদুল জলিল সিলেটভিউ২৪ডটকমকে বলেন, ‘নতুন কারাগারে এখনও গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কারাগারের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে এখন। এ কাজ শেষ হলে কারাগারে কয়েদি স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

চলতি মাসে কয়েদি স্থানান্তর সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য এই কারা কর্মকর্তার।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড-এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. শাহীনুর ইসলাম সিলেটভিউ২৪ডটকমকে বলেন, ‘গ্যাস সংযোগের জন্য সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ আবেদন করেছিল। পেট্রোবাংলা তাদের আবেদন গ্রহণ করে কয়েকদিন আগে অনুমতি দিয়েছে। কারাগারে গ্যাস সংযোগ প্রদান বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।’

সিলেট নগরীর ধোপদিঘিরপাড়ে দেশের প্রাচীনতম সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের অবস্থান। ১৭৮৯ সালে ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় আসামের কালেক্টর জন উইলিয়াম প্রায় ১ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২৪.৬৭ একর জমির ওপর এ কারাগারটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন আসাম রাজ্যের একমাত্র টিবি হাসপাতাল ছিল এ কারাগারেই। প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং বন্দি আধিক্যের কারণে ১৯৯৭ সালে কারাগারটি কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে বন্দি ধারণক্ষমতা ১২শ’ হলেও কারাগারে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় এবং কারাগারটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় তা স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) সিলেট কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প পাস হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যান প্রণয়ন করে সিলেট গণপূর্ত বিভাগ। তাদের অধীনেই সিলেট শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগারের নির্মাণ কাজ চলছে।

সিলেট গণপূর্ত অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা দুই হাজার। তবে আগামীতে তা চার হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারাগারে সবমিলিয়ে ৬৪টি ভবন রয়েছে। তন্মধ্যে ২৮টি বহুতল, বাকিগুলো একতলা ভবন। এছাড়া স্টিল স্ট্রাকচারড ভবন রয়েছে ৪টি। কারাগারে পুরুষ বন্দিদের জন্য ছয়তলাবিশিষ্ট চারটি ভবন এবং মহিলা বন্দিদের জন্য আছে একটি চারতলাবিশিষ্ট ও দুটি দু’তলা ভবন। কারাগারের মধ্যে রয়েছে একটি মসজিদ, একটি স্কুল, তিনটি ওয়াচ টাওয়ার, একটি ক্যান্টিন ও একটি গ্যারেজ। আছে পুরুষ ও নারী বন্দিদের জন্য পাঁচতলাবিশিষ্ট দুটি হাসপাতাল, ২০ শয্যাবিশিষ্ট দু’তলা মানসিক হাসপাতাল ও ২৫ শয্যাবিশিষ্ট দু’তলা যক্ষ্মা হাসপাতাল। এছাড়া সেল, কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ১৩০টি ফ্ল্যাট, গার্ড হাউস, ফুড গোডাউন, ফুয়েল গোডাউন, এডমিন অফিস, বন্দিদের সাথে সাক্ষাতের কক্ষ প্রভৃতিও রয়েছে। কারাগারের ৩০ একরের জায়গার মধ্যে অভ্যন্তরে ১৪ একর এবং বাইরে আছে ১৬ একর।