পল্লী বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধির কারণে ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

134

রুবেল আহমেদ || মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ||

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবিয়া,বলিয়ারবাগ,
বালিকান্দি,মমরোজপুর,ঢেউপাসা,
আঠাইশপাইকা,মোকামবাজার,
আতানক্ষিরি সহ শহরের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে পল্লীবিদ্যুতের বিল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজারের অধিকাংশ পরিবার ।

কারণ করোনায় বিগত কয়েক মাস যাবত মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য আর্থিক অবস্থা একেবারেই অস্বচ্ছল হয়ে পড়েছে যার কারণে মানুষ পল্লী বিদ্যুতের বিল দিতে অক্ষম হচ্ছে,সরকার থেকে পল্লী বিদ্যুতের বিল গ্রাহকদের কাছ থেকে কম হারে বিল নেওয়ার কথা হলেও বর্তমানে দ্বিগুণ এর চেয়েও বেশি হারে পল্লী বিদ্যুতের বিল নেওয়া হচ্ছে।যার ফলে সাধারণ মানুষ এই বিদ্যুৎ বিলের উপরে অভিযোগ তুলেছেন।

তত্ত্ব সূত্রে জানা যায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার প্রায় অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পল্লী বিদ্যুতের বিলের বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তাই আজ (৫ জুলাই) রোজ রবিবার পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস শ্রীমঙ্গল সড়ক জগন্নাথপুরে গিয়ে দেখা যায় উপস্থিত সকল গ্রাহকের অভিযোগ অতিরিক্ত বিল নিয়ে একজন মহিলা গ্রাহক বলেন আগে যেখানে ৩০০/(তিনশত) টাকা ইলেকট্রিক বিল আসতো এখন জুন মাসের বিল ধরে দিয়েছে ৯১৫/ (নয় শত পনেরো ) টাকা, আরেকজন গ্রাহক বলেন গত ডিসেম্বরে বিল আসে ৬২/(বাষট্টি) টাকা, এর পর মে মাসে বিল আসে ২০৯৭/(দুই হাজার সাতানব্বই) টাকা,জুন মাসে বিল আসে ৩১৪৮/ (তিন হাজার একশত আটচল্লিশ) টাকা।

আরেক জন বলেন এই জুন মাসে আমাকে বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ১৯১৫/(ঊনিশ শত পনেরো)টাকা,আমি অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসলে তারা আমার বিল ঠিক করে ৩১৫/(তিন শত পনেরো) টাকা লিখে দিয়ে বিলের খাগজ ঠিক করে দেয়।দরিদ্র এই গ্রাহক বলেন “আমি এতো টাকা দিব কোথা থেকে,আমি মাত্র একটি ফেন ও একটি লাইট চালাই” আরেকজন গ্রাহক বলেন এই অতিরিক্ত টাকার দায়িত্ব কে নিবে। এই টাকা গুলো কোথায় যায় ? অন্য আরেক জন মহিলা গ্রাহক বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আগামী ছয়মাস যেনো বিলের জন্য চাপ প্রয়োগ না করা হয়। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ এর কর্মীরা সবসময় চাপ প্রয়োগ করে বিল না দিলে লাইন কেটে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে। তাই বাদ্য হয়ে অনেক কষ্টে অতিরিক্ত বিল প্রদান করতে হচ্ছে।

তাদের মধ্যে বাবু মিয়া,তাজুদ মিয়া,ফখন মিয়া,রুমেল মিয়া,রুবেল আহমেদ,শিপার,আজাদ,মিঠুন, টিপু,সাব্বির আহমদ,হাবিব আহমদ জয় সহ অনেকেই বলেন “আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আধা (অর্ধ) বেলা কাজ বা ছোট-খাটো ব্যাবসা করি এতে করে নিজের সংসার নিয়ে আছি দুঃশ্চিন্তার মধ্যে কোনোমতে দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করাও অনেক কষ্টের,এরই মধ্য কোনো টাকা পয়সাও হাতে নেই, এমতাবস্থায় এই মহামারীর মাঝেও পল্লী বিদ্যুতের বিলের চাপ তাও আবার কয়েকগুণ বেশি এই অবস্থায় আমরা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা সূচনীয়।তাই সরকারের কাছে দাবি এই সমস্যার একটা সুষ্ট সমাধান যেন করা হয়।

এবিষয়ে জিবি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে ও সাধারণ গ্রাহকদের মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন করোনা কালীন সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ রিডিং নেয়া সম্ভব হয়নি তাই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী এভারেজ (গড় হিসেবে) বিল তৈরী করা হয়েছে এতে করে অনেকের বিল একটু কম বেশি হয়েছে।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন আজ রবিবার বিকেল ২ ঘটিকা থেকে আগামী দুই দিন প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিল রিডিং দেখে নতুন করে জুন মাসের বিল তৈরি করে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে।এবং গ্রাহকদের কাছে বর্তমান যে বিলের খাগজ আছে তা বাতিল বলে ঘোষনা করেন।

অবশেষে সাধারণ গ্রাহকদের দাবী বিল প্রস্তুতকারী মানছুরাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।