সিলেটের একমাত্র স্থলবন্দরে অচলাবস্থা!

302
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:শুল্ক জটিলতায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে সিলেটের একমাত্র স্থলবন্দর তামাবিলে। দেশের অন্যবন্দরের চেয়ে তামাবিলে বেশি শুল্ক আদায়ের অভিযোগে গেলো প্রায় দুইমাস ধরে সবধরণের পণ্য আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, স্থলবন্দরের শুল্কের ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা অবগত না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। বন্দরে অচলাবস্থার কারণে ধস নেমেছে রাজস্ব আদায়েও।

গত ২৭ অক্টোবর স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে সিলেটের তামাবিল শুল্ক স্টেশন। তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নিত করার ঘোষণায় উৎফুল্ল ছিলেন সিলেটের আমদানিকারকরা। সিলেটের একমাত্র এই স্থলবন্দর ঘিরে তারা দেখছিলেন নতুন নতুন পণ্য আমদানির স্বপ্ন। কিন্তু স্থলবন্দর ঘোষণার পর থেকেই বেড়ে যায় পণ্য আমদানি শুল্ক। সাথে যোগ হয় ‘হলিডে’ ট্যাক্স। ফলে ফিকে হয়ে আসতে থাকে তাদের ব্যবসায় সম্ভাবনার স্বপ্ন। বাড়তি শুল্ক দিয়ে ব্যবসায় লাভ করা সম্ভব নয় বলে আমদানি বন্ধ করে দেন তারা।

তামাবিল পাথর চুনাপাথর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী জানান, দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর থেকে তামাবিল দিয়ে আমদানিকৃত পণ্য থেকে বেশি শুল্ক আদায় করা হচ্ছে। সোনামসজিদ বা বেনাপোল দিয়ে ১৮-২০ চাকার লরি দিয়ে পণ্য আমদানি হয়ে থাকলেও তামাবিল দিয়ে ৬ চাকার ট্রাক দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আনতে হয়। অথচ পরিবহন প্রতি একই শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া শুল্ক স্টেশনকে বন্দরে উন্নিত করার পর থেকে তামাবিল দিয়ে পণ্য আমদানিকারকদের ‘হলিডে’ ট্যাক্স পরিশোধ করতে হচ্ছে। অস্বাভাবিকভাবে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে ব্যবসায়ীরা তামাবিল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করে লাভ করতে না পারায় তারা আমদানি বন্ধ রেখেছেন। তামাবিল বন্দরকে সচল রাখতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে এখন আমদানিকৃত পণ্যের মধ্যে পাথর ও কয়লার পরিমাণই বেশি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক জটিলতা কাটিয়ে তামাবিল বন্দরকে সচল রাখা গেলে এই বন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে নতুন নতুন  আরও অনেক পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে। শুল্ক স্টেশন থাকাবস্থায় যেখানে প্রতিদিন ১০০-২০০ গাড়ি পণ্য আমদানি হতো সেখানে শুল্ক বৈষম্য কমালে তামাবিল দিয়ে প্রতিদিন একহাজারের বেশি গাড়ি পণ্য আমদানি সম্ভব হবে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বে।

শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারি কমিশনার পার্থ ঘোষ বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে অভ্যস্ত নন। যে কারণে স্থলবন্দরের শুল্কের ব্যাপারে তারা অবগত নন। এছাড়া সিলেটের শুল্কস্টেশনগুলোর সাথে স্থলবন্দরের শুল্ক হারে তারতম্য থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

তবে ধীরে ধীরে ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে আমদানি শুরু করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় ধস নেমেছে রাজস্ব আদায়েও। তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা সৌমেন বিশ^াস জানান, এ বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৪ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের গেলো পাঁচ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ১১ কোটি টাকা। এ অবস্থা বিরাজমান থাকলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।