চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবারে ঠাঁই না পেয়ে শিবগঞ্জে করোনা শনাক্ত দম্পতি’র বন্ধ ‘মুরগির খামারে’ বসবাস

27
gb

জাকির হোসেন পিংকু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় করোনা শনাক্ত গাজীপুরের শ্রীপুর ফেরৎ এক দম্পতি নিজ বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে বসবাস করছেন একটি বন্ধ মুরগির খামারে। তবে শনাক্ত দম্পতি বলেছেন, ‘বন্ধ মুরগির খামার’ কথাটা শুনতে খারাপ হলেও এই ঘরে আত্মীয়রা যে ব্যবস্থা করে দিয়েছে তাতে তারা এখানেই ভাল রয়েছেন। বিশেষ অসুবিধা না হলে সূস্থ না হওেয়া পর্যন্ত তারা অন্য কোথাও যেতে চান না।
শনিবার(৩০’মে) শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা.সায়রা খান বলেন,গত ২৩’মে দম্পতি দেশের বাড়ি শিবগঞ্জের বিনোদপুর ইউনিয়নের চানশিকারী গ্রামে ফেরেন। শনাক্ত যুবক(২৯) টেক্সটাইল কর্মী। তার স্ত্রী(২৩) গৃহবধু। কিন্তু পরিবার ও গ্রামবাসীর বাধার মূখে যুবক স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ঢুকতে পারেন নি। তারা আশ্রয় নেন পাশের শ্যামপুর ইউনিয়নের বাবুপুর কামারপাড়া গ্রামে।
ডা. সায়রা আরও বলেন, ওই গ্রামে যুবকের শশ্মুরবাড়ি। যুবকের চাচা শ্মশুড়ের এক বছর যাবৎ বন্ধ একটি মুরগির খামার যথাযথভাবে পরিস্কার করে তাদের থাকার ব্যবস্থা হয়। ওই খামার ঘরটি আগে থেকইে বিভিন্ন কাজে ওই পরিবার ব্যবহার করত। ব্যবস্থা করা হয় একটি কাঁচা টয়লেটের। শশ্মুরবাড়ির নিকটেই আবার মূল বাড়ি থেকে বিছিন্ন হওয়ায় আত্মীয় ও এলাকাবাসী রয়েছেন নিরাপদে। আবার বাড়ির নিকটে হওয়ায় আত্মীয়রা নিয়মিত তাদের খবর রাখতে পারছেন। এলাকাবাসী প্রথম দিকে কিছু আপত্তি করলেও এখন মেনে নিয়েছে। দিকে গত ২৪’মে তাদের নমূনা সংগ্রহ করা হয়।গত ২৭’মে দু’জনেরই পজিটিভ রিপোর্ট আসে ।
ডা.সায়রা জানান,তিনি শনিবার (৩০’মে) দুপুরে ওই দম্পতির সাথে তাদের আবাসস্থলে গিয়ে খোঁজ নেন। সাথে ছিলেন ইউএনও শিমুল আখতার,ইউপি চেয়ারম্যান ও র‌্যাব-৫ এর একটি দল। এসময় তাদের কিছু খাবার দেয়া হয়। সম্পূর্ণ উপসর্গহীন ওই দম্পতি সূস্থ আছেন। শনাক্ত হবার পর থেকেই তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডা. সায়রা করোনা রোগিদের ব্যাপারে কিছু মানুষের ‘মানবিকতার’ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, ছেলেটির গ্রামের বাড়ি তার ইউনিয়নে। তারা গ্রামে আসার পর বাড়িতে ঢুকতে বাধার সম্মুখীন হলে তাকে জানান। এদিকে ছেলেটির পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামাবাসীও গাজীপুর ফেরৎ হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় দম্পতিকে বাড়িতে ঢুকতে আপত্তির কথা জানায়। তারা বলে, দম্পতির করোনা টেষ্ট হবার পর তাদের বাড়িতে ঢুকতে দেয়া হবে। এমতাবস্থায় তিনি কোন সমাধান করতে পারেন নি। তখন ওই দম্পতি শিবগঞ্জ পুলিশের শরনাপন্ন হন।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্য(ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন,দম্পতির আত্মীয়রা তার সাথে যোগাযোগ করে ঘটনা জানায় ও তাদের শশ্মুড়বাড়ি থাকার ব্যবস্থা হয়েছে বলে অবহিত করে। কিন্তু শনাক্ত যুবক কারও বিরুদ্ধে তার নিকট অভিযোগ করেন নি।

দম্পতির বর্তমান আবাসস্থল শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম বলেন, শনাক্ত যুবকের শ্মশুড় দম্পতিকে নিজ বাড়িতে রাখার জন্য তার অনুমতি চাইলে তিনি ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায়(ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়রান্টাইন সেন্টার) তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু দেখাশোনার সুবিধের জন্য ছেলেটির শ্মশুড় দম্পতিকে নিজের কাছাকাছি রাখতে চাইলে তিনি অনুমতি দেন। প্রথম প্রথম এলাবাসী কিছু আপত্তি করলেও এখন সব ঠিক হয়ে গেছে।
সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী বলেন,দম্পতি গ্রামে আসার পর থেকেই জনপ্রতিনিধি,প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ,এনজিওসহ সকলের নজরেই তারা রয়েছেন। ছেলেটির পরিবারে তার ঠাঁই না হবার বিষয়টি দূ:খজনক। যতদূর জানা গেছে, তাতে ছেলের সৎ ভাইয়েরা এমন অবস্থার সূত্রপাত ঘটান। সিভিল সার্জন বলেন, যত ভাল ব্যবস্থাই থাকুক, বন্ধ মুরগির খামারে বসবাস বিষয়টি মেনে নেবার মত নয়। দম্পতি চাইলে তাদের থাকার জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, দম্পতি গ্রামে আসার পর থেকেই কোয়ারান্টাইনে থাকায় তাদের দ্বারা অন্য কারও সংক্রমণের সূযোগ ঘটে নি। ###

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন