গোপালগঞ্জে এবার আরেক সাংবাদিককেও দেখে নেয়ার হুমকি মেম্বার কন্যার (ভিডিও )

138
gb
6

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : ||
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিকের উপর বর্বরোচিত হামলার পর পরই তার এক জুনিয়র সহকর্মীকেও মোবাইল ফোনে দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন ইউপি মেম্বার কন্যা।

গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার বানিয়ারচর বউবাজার এলাকায় এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী হাসান মাহমুদ ও তার ক্যামেরাম্যান প্রদীপ সরকারের উপর হামলার পর পরই জলিরপাড় ইউনিয়নের মেম্বার ও হামলার ঘটনার মাস্টারমাইন্ড শ্রিপ্র মোহন্ত হারুর মেয়ে জেসমিন মোহন্ত (৩২) মোবাইল ফোনে আরেক সাংবাদিককেও দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তার মায়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য একই পরিনতি ভোগ করার হুমকি দেন ওই সাংবাদিককেও।

সম্প্রতি, মুকসুদপুরের বানিয়ারচরের তালবাড়ি এলাকায় দেশী মদ তৈরীর সরঞ্জামসহ স্থানীয় তিন যুবককে আটক করে এলাকাবাসি। ইউপি মেম্বার শ্রিপা মোহন্ত হারুর আত্মীয় হয়ায় তাদেরকে আইনে সোপর্দ না করে ছেড়ে দেন তিনি। ওই এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এটিএন বাংলার সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক ওই এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টির সত্যতা পান। পরে বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়।

এছাড়া এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নিরীহ মানুষের সাথে কথা বললে ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন সেফটি নেট কার্যক্রমে তাদেরকে সুবিধা দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এঘটনায় ওই ইউপি মেম্বার হাসান মাহমুদের উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন।

অবশেষে গত রোববার (৩মে) সন্ধ্যায় মহামারি করোনাকালীন সময়ে মুকসুদপুরে সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ শেষে গোপালগঞ্জ শহরে বাড়িতে ফেরার পথে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের বানিয়ারচর বউবাজার এলাকায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ি ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন সন্ত্রাসী এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী হাসান মাহমুদের পথ রোধ করে।

সন্ত্রাসীরা হাসান মাহমুদ ও তার ক্যামেরাম্যান প্রদীপ সরকারকে মটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে গিয়ে লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এসময় সাংবাদিকহাসান মাহমুদ ও ক্যামেরাম্যান প্রদীপ সরকার কাছে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্রসহ ভিডিও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায় সন্ত্রাসীরা ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত সাংবাদিকের ভিডিও ধারন করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালায় তারা।

পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ গুরুতর অবস্থায় হাসান মাহমুদকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ক্যামেরাম্যান প্রদীপ সরকার স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিক হাসান মাহমুদ ও তার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দেশ জুড়ে ওঠে নিন্দার ঝড়। এঘটনায় হামলাকারিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন তারা।

এদিকে,সোমবারতার উপর হামলার ঘটনায় চৌধুরী হাসান মাহমুদ বাদি হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও রহস্যজনক কারনে আসামীদের গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মীর্জা আবুল কালাম আজাদের সাথে এ ব্যপারে কথা বললে, তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।
মুকসুদপুরের সিন্ধিয়াঘাট পুলিশের এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন