নায়ক আকবর

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব-১৯ দলটিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নে রূপান্তরের পেছনে অনন্য অবদান অধিনায়ক আকবর আলির।যেমন নেতৃত্ব, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তার ঝুড়ি মেলা ভার। আকবর আলীদের হাত ধরেই পাওয়া এ বিশ্বকাপ বাংলাদেশের বৈশ্বিক যে কোনো টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপা।

টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান আকবর আলী। বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে চাপে পড়ে ভারত। ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের বোলারদের সামনে। যশস্বী জয়সওয়ালের ৮৮ রানের ওপর ভর করে ৪৭.২ ওভারে মাত্র ১৭৭ রানে অলআউট হয়েছে তারা। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়ে ভারতকে ধসিয়ে দিয়েছেন অভিষেক দাস। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ও তানজীম হাসান সাকিব নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজীদ হাসান ৮.২ ওভারেই তুলে নেন ৫০ রান।

তবে এরপরই খেই হারিয়ে ফেলে টাইগার যুবারা। ৫০ থেকে স্কোর ৬২ হতেই হারাতে হয় ৩ উইকেট। এছাড়া দুর্দান্ত খেলতে থাকা পারভেজও ক্রিজ ছাড়েন ব্যথা পেয়ে।

ফলে মামুলি লক্ষ্যেও হারের শঙ্কা জাগে বাংলাদেশের। পঞ্চম উইকেটে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক আকবর আলী। দাঁতে দাঁত চেপে তিনি একপাশ আগলে রাখলেও দেখেন বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ১০২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে খাঁদের কিনারায় চলে যায় যুবারা।

আকবর আলী আর আহত পারভেজ ছাড়া সব স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই ফিরে গেছেন সাজঘরে। ক্রিজে নিঃসঙ্গ আকবর আলীকে সঙ্গ দিতে ব্যথা নিয়েই আবারও ব্যাট হাতে নেমে পড়েন পারভেজ। পারভেজের সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে আবারও দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন অধিনায়ক। কিন্তু পার্টটাইম বোলার জয়সওয়ালের স্পিনে থামে পারভেজের লড়াই। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড়ালেও পারভেজের বীরত্বপূর্ণ ৪৭ রানের ইনিংসটিই স্বপ্ন দেখায় বাংলাদেশকে।

এরপর রকিবুলকে নিয়ে সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন আকবর আলী। পারভেজ আউট হলেও একপাশে লড়াই চালান বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলী। একপাশ আগলে রেখে নিভু নিভু করা জয়ের আশা আবারও জাগিয়ে তোলেন আকবর আলী। রকিবুলকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে দলকে জয়ের বন্দরে টেনে নিয়ে যান তিনি। রকিবুলও দাঁতে দাঁত চেপে টিকে থাকেন ক্রিজে, যোগ্য সঙ্গ দেন আকবরকে।

জয় থেকে বাংলাদেশ যখন ১৫ রান দূরে তখন হানা দেয় বৃষ্টি। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি কমলে আবারও খেলা মাঠে গড়ায়। ৮ রান কমে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রানে। ফলে বাংলাদেশের দরকার হয় আর মাত্র ৭ রান। আর দেরি করেননি আকবর। ৭ রান তুলতে খেলেন মাত্র ৭ বল। আর তাতেই ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। আকবর আলীর হাত ধরেই প্রথমবার কোনো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।

অধিনায়ক আকবর ফাইনালে নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকেই। তার ৭৭ বলের ৪৩ রানের ইনিংসটিই তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। তাই ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন