পিকে হালদার একাই লুট করেছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা

76
gb

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির শীর্ষ পদে থেকে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লুটে নিয়ে এখন বিদেশে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে এরআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)। অর্থলুটের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানকালে বিদেশ যাত্রায় দুদক থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সংশ্লিষ্টদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে দেশ ছেড়ে এখন বিদেশে প্রশাস্ত কুমার হালদার। গত নভেম্বর মাসে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। প্রশাস্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, প্রশান্ত কুমার হালদার যে শুধু পিপলস লিজিং এবং রিলায়েন্সের অর্থ লুট করেছে তা নয়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের শীর্ষ পদে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। এসব সব প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন ও নতুন আরও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠান তৈরির মাধ্যমে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত করে তা বিদেশে পাচার করেছে প্রশান্ত কুমার হালদার।

দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে কৌশলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ক্যাসিনো অভিযানের মধ্যে দুদক কর্তৃক দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পর্যায়ে প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ। ওই মামলার আগেই সে দেশ ছেড়ে লাপাত্তা হয়। দুদক চেষ্টা করছে প্রশাস্ত কুমার হালদারকে কিভাবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হলে পিপলস লিজিং কোম্পানি ও রিলায়েন্স ফ্যাইন্স্যান্সের গত ৪ বছরে (২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত) দায়িত্বে থাকা বোর্ড অব ডিরেক্টটরদের নামসহ যাবতীয় নথিপত্র তলব করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত বছরের ১৩ নভেম্বরের মধ্যে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নথিপত্র দুদকে পৌঁছানোর জন্য বলা হয়েছে। তথ্য চেয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পিপলস লিজিং এবং রিলায়েন্স ফাইনেন্সের কাছে পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারকে দুদকে তলব করে গত বছরের ১৪ নভেম্বর হাজির থাকতে বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টেরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়. রিলায়েন্স ফাইনান্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন পরিচালক বানায়। একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাত করে। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাত করার অভিযোগ রিলায়েন্সের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। মূলত পিপলস লিজিং কোম্পানি দেওলিয়া ঘোষণা করে বন্ধ হওয়ার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে। এ সব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দিয়ে আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সব অর্থ আত্মসাত করে প্রশাস্ত কুমার হালদার।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে পিপলস লিজিং কোম্পানি দেওলিয়া ঘোষণা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিটির কাছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী গ্রাহকরা ১৫শ’ কোটি টাকার মতো পাওয়া ছিল। কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়কারী গ্রাহকরা ওই অবস্থায় চরম বিপাকে পড়েন। লভ্যাংশ ঘোষণা করেও শেয়ার হোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়ার অভিযোগ পিপলস লিজিং কোম্পানির বিরুদ্ধে। গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পিপলস লিজিং কোম্পানিতে যে সব গ্রাহকরা অর্থ পাবেন তাদের অর্থ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন