শেষ হাসি কে হাসবেন, তাপস না খোকন?

104
gb

জিবি নিউজ ২৪

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যুদ্ধ জমে উঠেছে। বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনকে চ্যালেঞ্জ করে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। তাপস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে৷ তাপসের বড় ভাই শেখ ফজলে মাহিম পরশকে এবার যুবলীগের সভাপতি করা হয়েছে৷

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেই তার পক্ষে এক বিরাট সমর্থকগোষ্ঠী দাঁড়িয়ে গেছে। যারা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে তাপসকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন। মেয়রপদে আকস্মিকভাবে তাপসের মনোনয়ন ফরম কেনার ঘটনায় ভড়কে গেছেন বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন।

গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম কিনতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খোকন। বলেন, ‘রাজনীতিতে একটা কঠিন সময় পার করছি।’

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে শনিবার৷ বিএনপিও একই দিনের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে৷ শেষ সময়ে এ নিয়ে জল্পনা তাই তুঙ্গে৷

প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে চিন্তায় আছেন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন৷ দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেবে, না নতুন মুখ খুঁজবে? এই প্রশ্নই এখন সবখানে৷

মনোনয়ন পত্র কেনার সময় কেঁদে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমি আবেগে কেঁদে ফেলেছি৷ ষড়যন্ত্র বলা ঠিক হবে না৷ নানা রকম অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ আমি নগরবাসীর দোয়া চেয়েছি, তাদের দেয়া পেয়েছি৷ সব ঠিক হয়ে গেছে৷”

শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বোর্ডেও বৈঠক৷ এই বৈঠকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে দলীয় মনোননয়ন চূড়ান্ত হবে৷

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিগন্যাল পেয়েই মেয়র পদে প্রার্থী হতে মনোনয়ন পত্র কিনেছেন তাপস৷ সেটা ধারণা করতে পারছেন সাঈদ খোকনও৷ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র কেনার সময় কেঁদেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘আমি কখনো কোনো দায়িত্বে অবহেলা করিনি৷” সাঈদ খোকন ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মেহাম্মদ হানিফের ছেলে৷

সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারার অভিযোগ রয়েছে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে৷ এছাড়া দলের সঙ্গে দূরত্ব এবং সিন্ডিকেট তৈরি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ তবে শুক্রবার সাঈদ খোকন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি মনোনয়ন পাব বলে পুরোপুরি আশাবাদী৷ প্রার্থী পরিবর্তনের যে খবর আপনারা শুনছেন আমার কাছে তার উল্টো খবর আছে৷”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খোকনের এই কান্না উৎকণ্ঠার কান্না। কারণ তিনি নিজেও জানেন যে তাপস বিনা কারণে মনোনয়ন ফরম কেনেননি। যদিও খোকন দাবি করেছেন, মনোনয়ন তিনিই পাবেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতির সবুজ সংকেত তিনি পেয়েছেন। কিন্তু অনুমান করে এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি’র পুত্র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের দ্বৈরথ বেশ পুরনো। এই দ্বৈরথের সূচনা ওয়ান ইলেভেন থেকে। ওয়ান ইলেভেনে সাঈদ খোকন ছিলেন সংস্কারপন্থী। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে তিনি কিংস পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। আর তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস তখন ছিলেন শেখ হাসিনার অন্যতম আইনজীবী। শেখ হাসিনাকে যারা মাইনাস করতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাপসের সুস্পষ্ট অবস্থান ছিল। অন্যদিকে সাঈদ খোকন নিজেই শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সাঈদ খোকন মেয়র হন। জানা গেছে, সাঈদ খোকন মেয়র হয়ে আলাদা সিন্ডিকেট গঠন করেছিলেন। সিটি কর্পোরেশনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা জায়গা পায়নি। তাপস নিজেও একাধিকবার সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতি এবং অনিয়ম বন্ধের জন্য সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে এটা তাপসের ‘প্রতিবাদ’ বলে মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুবিধাবাদী আপসকামী রাজনীতির সঙ্গে আদর্শের লড়াইয়ের পুরনো সংঘাতই হলো তাপস-খোকনের দ্বৈরথের বর্তমান রূপ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন