পলাশবাড়ীতে ধর্ষণ মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবীতে ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন

95
gb

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি //

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে আওয়ামীলীগ নেতা- নেত্রীর পরকিয়া প্রেমের খেসারত নারী শিশু আইনে মামলার চুড়ান্ত রিপোর্ট নিয়ে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারীর সংবাদ সম্মেলন আজ ২৩ নভেম্বর শনিবার পলাশবাড়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নারী এলিজা বেগম জানান,গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের আওয়ামীলীগ নেতা ও স্কুল শিক্ষক জান্নাতুন নবী রিপন ও নুনিয়াগাড়ী গ্রামের ইউনুস আলীর কন্যা এলিজা বেগম লিজা (৩৮) এক কন্যা সন্তানের জননী, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী যুবমহিলালীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য ( বর্তমানে স্বামী তালাক প্রাপ্ত) বটে। উভয় নেতা -নেত্রী একই দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত এবং পরকিয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। প্রেমিক জান্নাতুন নবী রিপন পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের পিয়ারী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার একজন সহকারি শিক্ষক,মহদীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা কমিটির একজন সদস্য। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলার ছোট ভগবানপুর গ্রামের এমএ আজিজ খন্দকারের ছেলে। এবং সে বিবাহিত ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার বর্তমান স্ত্রী থাকা সত্বেও পিয়ারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রী এলিজা বেগমের প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। তার নিজ বাড়ীতে আশা যাওয়া করেন এবং বিবাহের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এই প্রস্তাবে পিতা – মাতার অসম্মতি ও এলিজার আপত্তি প্রকাশ পেলে বিভিন্ন সময়ে তিনি নানা ভয়ভীতি ও হুমকির সমুখীন হন। উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি দলীয় লোকজন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছেও নালিশ জানান। যার জের ধরে এলিজা বেগম গত ২৩ -০৬- ২০১৯ ইং তারিখে রাত্রি আনিমানিক ৮ ঘটিকায় ম‚ল আসামী জান্নাতুন নবী রিপন তার অপর সহযোগী বন্ধু তারেক মিয়া (৩০) ও লিমন মিয়া (২৮) দের যোগসাজশে পলাশবাড়ী ঘোড়াঘাট সড়কের শিশু কানন স্কুল এন্ড কলেজের দক্ষিণ পাশ্বে প‚র্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওঁতপেতে থাকা আসামীরা জোরপ‚র্বক ওড়না দ্বারা মুখ বেঁধে একটি ভাড়াটে েিসনজিতে তুলে নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকারে ক অপরিচিত বাসায় আটক করে এবং অবরুদ্ধ ঘরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাতভর কয়েকবার ধর্ষণ শেষে গত ২৪ -০৬-২০১৯ ইং তারিখে ভোর রাত্রিতে আনুমানিক রাত সাড়ে ৪ ঘটিকায় সিএনজি যোগে গোবিন্দগঞ্জ এলাকা হতে পলাশবাড়ী মহিলা কলেজের সামনে নামিয়ে দিয়ে দ্রæত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম এলিজার এজাহার গ্রহনে থানা পুলিশের অনীহা ও গড়িমসি অব্যহত থাকে। তবে স্থানীয় বিশেষ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক চাপে থানার অফিসার ইনচার্জ গত ০২-০৭-২০১৯ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১)/৬০ ধারায় ভিকটিম বাদিনীর অভিযোগ এজাহার হিসাবে লিপিবদ্ধ করেন ( যার এফআইআর নং ১/১২০)। বাদিনী আরো অভিযোগ করেন আসামী পক্ষের মোটা অংকের আর্থিক প্রভাবে জিআর নং-১/১২০ মামলার প্রাথমিক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের নামে অন্যত্র স্থানান্তর হলে অপর একজনকে তদন্তভার অর্পণ,অপহরণ ও ধর্ষণ সংক্রান্ত আলামত বিনষ্ট করতে ৮ দিন বিলম্বে ডাক্তারি পরীক্ষা, মানিত সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহনে অনীহা নিরপেক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে অহেতুক গড়িমসি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন,ঘটনাস্থল পরির্দশনে আন্তরিক না হওয়া সহ নানা অনিয়মের আশ্রয় গ্রহনের অভিযোগ,বাদিনী পক্ষে চার্জসীটের নামে আর্থিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা সফল না হওযায় অবেশেষ গত ২৫-১০-২০১৯ ইং তারিখে অভিযুক্ত তিন আসামীকে অব্যাহতির মাধ্যমে একটি চুড়ান্ত রিপোর্ট নং ১৭ দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রী তয়ন কুমার মন্ডল( বিপি-৮৬১৩১৬১০৯৮) যার ফলাফল অত্র বাদিনীকে সরাসরি বিধি মোতাবেক সরবরাহ করা হয়নি। তবে ভিন্ন স‚ত্র থেকে সংগ্রহের মাধ্যমে অদ্য সংবাদ সম্মেলনের কারণে ঘটে। তিনি আরো বলেন এখানে উল্লেখ্য করা প্রয়োজন যে, চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের আগে ১৬-০৯-২০১৯ ইং তারিখে সহযোগী আসামী লিয়ন মিয়া (২৮)কে গ্রেফতার দেখানো হয় বটে। পক্ষান্তরে এজাহারে বর্ণিত ম‚ল আসামী জান্নাতুন নবী রিপন ও এজাহার কারীর মোবাইল নং থানা গ্রহিত হলেও মোবাইলের সংলাপের গোপন তথ্য পাশকাটিয়ে যাওয়ার নজির আছে। যার কল লিষ্টঅনুযায়ী গোপন সংলাপের তথ্য বাদিনী সংরক্ষণে থাকলেও তদন্তকারি কর্মকর্তা গ্রহনে অনীহা প্রকাশ করেন বটে। এতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হয় নলিশী চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রভাব মুক্ত নয়। বিধায় অশুদ্ধ,ত্রুটিপ‚র্ণ ও কারণশুন্য মর্মে তা বাতিল প‚র্বক বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ পাওয়া আবশ্যক। এতে ন্যায় ও সুবিচার পাওয়ার সম্ভবনা আছে বলে আমার ধারনা। ইহাই আমার ম‚ল বক্তব্য ও দাবী।