বান্দরকে লাই দিলে গাছে ওঠে : ফিরোজ রশীদ

66
gb

জিবি নিউজ ২৪

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার কড়া সমালোচনা করেছেন তার দলেরই প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

রাঙ্গার বক্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘একটি কথা আছে- বান্দরকে লাই দিলে গাছে ওঠে। এই লাই আমরা দিইনি। এই লাই এই সংসদই দিয়েছে। আমি যতদিন রাজনীতি করি ততদিন ওর (রাঙ্গার) বয়সও না। ও এই ধৃষ্টতা দেখায় কিভাবে, এই দুঃসাহস কিভাবে পেল ?’                                                           অনির্ধারিত এই আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাপা চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদেরও সংসদে উপস্থিত ছিলেন। তবে রাঙ্গাকে গত দুইদিন সংসদে দেখা যায়নি।

ফিরোজ রশীদ বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গার বক্তব্য আমি শুনেছি। কিন্তু আমি সেদিন সভায় (রবিবার জাপার আলোচনা সভায়) ছিলাম না। পরে দেখি এটা ভাইরাল হয়ে গেছে। তার এই বক্তব্য জাপার বক্তব্য না। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য হতে পারে না। এটা রাঙ্গার নিজস্ব বক্তব্য। এই বক্তব্যের জন্য জাপা লজ্জিত। আমরা দুঃখিত এবং অপমানিত বোধ করছি।

তিনি বলেন, ‘নূর হোসেন ’৯০-তে জীবন দিয়ে গেছেন। যে যুবক গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে পারেন, স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারেন সেই সাহসী যুবকের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। আমরা কখনো এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখাইনি। এই ধরনের অপমানজনক কথা আমরা কখনও বলিনি।’                                                     ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘যাদের অতীত নেই, বর্তমানেও কিছুই ছিল না, হঠাৎ তাকে মন্ত্রী বানানো হলো, একটার পর একটা প্রমোশন দেওয়া হলো। আমরা তো তাজ্জব হয়ে গেলাম! এগুলো আমরা দিইনি। এই সংসদে সে বিরোধীদলের চিফ হুইপ। আমি একদিন বললাম তাজুল ইসলাম চৌধুরী মারা গেছেন, তার বিষয়ে বক্তব্য রাখব। সে (রাঙ্গা) বলে- আপনি দেবেন, আমি কেন নাম পাঠাব। এই ধৃষ্টতা সে দেখাতে পারে!’

তিনি বলেন, ‘সে (রাঙ্গা) করেছে যুবদল। কোথায় আন্দোলন করেছে? কোথায় সংগ্রাম করেছে? শুধু তাই না, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কেও সে কথা বলেছে। সে গণতন্ত্রের ছবক দেয়। যে লেখাপড়া করেনি, রাতারাতি কাগজের মালা গলায় দিয়ে পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে হঠাৎ করে এখানে এসে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে গেছে। সে এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখায়। আর তার জবাব দিতে আজ সংসদে দাঁড়াতে হয়। আমরা আজকে খুব লজ্জিত। এটা সম্পূর্ণ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। আমরা দুঃখিত। নূর হোসেনের গায়ে লেখাটা ছিল একটা পোস্টার। সারা বিশ্বের লোক দেখেছে। এটা ছিল তার মনের কথা।’

ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, ‘রাঙ্গার এই বক্তব্য জাপা গ্রহণ করে না। তার বক্তব্যের দায়িত্ব আমরা ও আমাদের দল নেবে না। সে এমপি হয়ে এখন সংসদে। পিছনে আওয়ামী লীগ না থাকলে সে রংপুরে নামতেও পারতো না।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More