লন্ডনে দুই রাজনীতিকের সম্মানে এলামনাই ইউকের ডিনার

31
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের কিংবদন্তী নেতা, প্রবীন রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অন্যতম প্রেরণা ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলনের কর্মী সৃষ্টির কারখানাখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষকেন্দ্র।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই তারকা এলামনাই, বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও প্রবীন রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই, ইউকের উদ্যোগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক ডিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনের সভাপতি ব্যারিষ্টার আনিস রহমান ওবিই’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুর রকিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ডিনারপূর্ব আলোচনায় দুই অতিথি ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এলামনাই প্রবীন রাজনীতিক সুলতান শরীফ, ঢাকা থেকে আগত ড. বহ্নি শিখা দাস পুরকায়স্থ, দেওয়ান গৌস সুলতান, সাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনীতিক সৈয়দ ফারুক, মারুফ চৌধুরী, ডাকসুর প্রাক্তন সদস্য সৈয়দ আবু আকবর ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান, হাফিজুর রহমান, প্রশান্ত পুরকায়স্থ ও মোস্তফা কামাল মিলন প্রমূখ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সত্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দা ফেরদৌসি পাশা কলি ও রাজনীতিক আফসার খান সাদেক।
৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের দীর্ঘ স্মৃতিচারণ করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য তাঁর বক্তৃতায়। ৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের আগে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর মৃত্যুঝুকি সম্পর্কে সতর্ক করতে গিয়েও বাঙালীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাসী বিশাল হৃদয়ের অধিকারী বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করাতে না পারা, ১৫ই আগষ্টের পর তৎকালীন স্পীকার আব্দুল মালেক উকিলকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়া ইত্যাদি বিষয় স্মৃতিচারণে তুলে আনেন স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে অস্ত্র সমর্পণকারী বীর এই মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের দেশের সম্পদ আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আমাদের এই মেধাবীরা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সাফল্যের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশকেই গৌরবান্বিত করছেন।
লন্ডনে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করে এলামনাই এসোসিয়েশন গড়ে তুলার উদ্যাক্তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সৃজনশীল মেধাবী কর্মকান্ড প্রবাসে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তিই তুলে ধরবে, এমনটিই আমার বিশ্বাস। বক্তৃতায় ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় ১৫ই আগষ্টের স্মৃতিচারণও করেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এই রাজনীতিক।
বলেন, ‘সহকর্মীদের হোটেল রুমের চাবি পকেটে নিয়ে চলে আসায় তা ফেরত দিতে ঘাতক বাহিনীর আক্রমনের ঘন্টা খানেক আগে ৩২ নং ছাড়তে হয়েছিলো আমাকে। আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন এমন ইচ্ছেই হয়তো ছিলো সৃষ্টিকর্তার’। বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দিতে ঐসময় যেভাবে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিলো, সেই ষড়যন্ত্র সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও হচ্ছে, এমন আশঙ্কার কথাও শেখ আব্দুল্লাহ তুলে ধরেন তাঁর বক্তৃতায়। বলেন, ‘বাংলাদেশকে বিশ্ব সভায় গৌরবের আসনে নিয়ে আসার কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব স্তব্ধ করে দিতে বহুমূখী অপতৎপরতা চলছে, আর এই অপতৎপরতার অন্যতম একটি কেন্দ্র হচ্ছে লন্ডন’। মন্ত্রী দেশ ও জাতীর স্বার্থে এবিষয়ে সতর্ক থাকতে ব্রিটেনে বসবাসরত দেশের মেধাবী সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইদের পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বক্তারা একাডেমিক ক্ষেত্রে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জল অতীত অনেকটা ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। বলেন, ‘আমাদের সন্তান প্রজন্ম থেকে শুরু করে পরবর্তী সব প্রজন্মের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ ইমেজ ঠিকে থাকুক এমনটিই আমরা চাই। কারন, বাংলা নামের স্বাধীন ভূখন্ডের জন্ম ইতিহাসের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নামটি যে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত’।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More