দুই কাউন্সিলর মিজান ও রাজীবের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

32
gb

জিবি নিউজ ২৪

প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা; চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকার দুই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বুধবার মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

কাউন্সিলররা হলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানের (পাগলা মিজান) এবং ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব। দুই কাউন্সিলরই কারাগারে আছেন।

দুদকের উপপরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কাউন্সিলর পাগলা মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অন্যদিকে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বাদী হয়ে ২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলা দুটি করা হয়।

মিজানের অবৈধ সম্পদ: এজাহারে বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে হাবিবুর রহমান মিজানের নামে স্থাবর ২০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও অস্থাবর ৯ কোটি ২৭ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩১ টাকার সম্পদসহ মোট ৩০ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩১ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বসিলা রোডের ৪২/৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের হাবিব প্লাজার ৩০ কাঠা জমি দখল করে তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এখানে মার্কেটসহ প্রায় ৪৮২ কাঠা জমি রয়েছে যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিজানের দখলে। তিনি এই জায়গা দখল করে ২০টি টিনের চালাঘর নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়েছেন। নিজস্ব লোক দিয়ে ওই দোকানের ভাড়া তোলা হয়। লালমাটিয়ার বি ব্লকে সরকারি জমি দখল করে স্বপ্নপুরী হাউজিং প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। সেখানে ভবন তৈরি করে ফ্ল্যাটের মালিকানা অর্জন করেছেন। 

লালমাটিয়ায় ২৪/এ নম্বর প্লটে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে পপুলার অর্কিড নামের ছয়তলা ভবন নির্মাণ করছেন, যাতে তিনি প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। লালমাটিয়ার ২৪/বি নম্বর প্লটে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে ইম্পেরিয়াল গার্ডেন নামে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন, এখানেও তিনি প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। লালমাটিয়ায় ২৪/সি ও ২৪/ডি নয় প্লটে প্রায় ১০ কাঠা জমিতে দুই ইউনিট বিশিষ্ট ছয়তলা ভবনে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। এতে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া স্বপ্নপুরী হাউজিং কমপ্লেক্সের প্রায় দুই হাজার গজ দূরে ১৫ কাঠা জমিতে আড়ং মার্ট নামে একটি সাততলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এটির মালিকও হাবিবুর রহমান মিজান। লালমাটিয়া আবাসিক এলাকায় ওইসব প্রকল্পে তিনি প্রায় ১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন।

আয়কর নথির তথ্য অনুযায়ী তার মোহাম্মদপুরের ২৪/সি ও ২৪/ডি নং হোল্ডিংয়ে ১৩৫০ বর্গফুট বিশিষ্ট চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার মূল্য এক কোটি ৮৯ লাখ টাকা। তার নামে মোট ২০ কোটি ৮৯ টাকার স্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

রাজীবের নামে অবৈধ সম্পদ: এজাহারে বলা হয়, কাউন্সিলর রাজীবের নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাউন্সিলর থাকাকালে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার নামে অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর প্লটে একটি দোতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি। কাটাসুর ৩ নম্বর রোডে নিজের নামে প্লট, মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ের ৬ নম্বর রোডের শেষ মাথায় পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধ প্রধান সড়ক সংলগ্ন ১৩ নম্বর প্লটে পাঁচতলা বাড়ির মালিক ইয়াছিন হাওলাদার, যিনি তারিকুজ্জামান রাজীবের চাচা। এই বাড়ির প্রকৃত মালিক তারিকুজ্জামান রাজীব, যেখানে তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ের ই ব্লকের ২ নম্বর রোডে ৪১/১০/ই হোল্ডিংয়ে তিনতলা বাড়ির প্রকৃত মালিক রাজীব। মোহাম্মদপুর সাতমসজিদ হাউজিংয়ের চাঁদ উদ্যানের ৪/বি নম্বর রোডে ছায়াবীথি নামে ১৮ নম্বর প্লটে চারতলা বাড়ির মালিকও রাজীব। মোহাম্মদীয়া হাউজিংয়ের বেড়িবাঁধ প্রধান সড়কে ২০২/৫ নম্বর প্লটে শুকতারা নামের বাড়ির প্রকৃত মালিক রাজীব। রাজীব সিলিকন হাউজিংয়ের শেয়ার হোল্ডার, শ্যামলাপুর ওয়েস্টার্ন সিটির পরিচালক। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ৬ নম্বর রোডে প্রায় ছয় কাঠা জমি ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট বানিয়ে দখল করে রেখেছেন। রাজীবের চাচা ইয়াছিন হাওলাদার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। এর বাইরে তার আয়ের কোনো উৎস ছিল না। যদিও তিনি বর্তমানে নিজেকে একজন ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দেন। রাজীব তার নিজ নামে-বেনামে তার চাচা ইয়াছিন হাওলাদার ও অন্যের নামে প্রায় ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

Attachments area
gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More