৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন করে মানবতার কাজ করেছেন ইন্দিরা গান্ধী : অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক

139
gb

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেছেন, পশ্চিম পাকিস্তানের নিপীড়ন বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিকালে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের শোষণ-শাসন-নির্যাতনের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন ৬৬ থেকে ৭০ পর্যন্ত এবং ৭০ এ পাকিস্তানের নির্বাচনে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত হন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তিনি আইনের বিরুদ্ধে নির্বাচনের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে নিজ দেশে নিরস্ত্র জনগণের উপর সশস্ত্র আক্রমন করেন। সেই মুহুর্তে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাকে ধারন করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদ ৩১ মার্চ ভারতে গমন করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর কাছে আবেদন করেন যে, আমরা বাঙালিরা নির্যাতন নিপীড়িনের শিকার। এ থেকে আপনিই পারেন আমাদেরকে রক্ষা করতে। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষাবলম্বন করেন বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের পক্ষে আনার জন্য বিশ্ব ভ্রমণ করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানাস্থ সাংবাদিক নির্মল সেন মিলনায়তনে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, গণতান্ত্রিক ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহান রাশিয়ার সাথে ২০ বছরের সামরিক চুক্তি করেন মিসেস ইন্দিরা গান্ধী। ইহার পর বাংলাদেশকে ভুটান দ্বারা ৩রা ডিসেম্বর স্বীকৃতি দেওয়ার। পরবর্তীতে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনী হিসেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর ২ মাসের মাথায় গান্ধী বাংলাদেশ থেকে তার সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিসেস ইন্দিরা গান্ধী ১ কোটি শরণার্থীদেরকে লালন-পালন করেছিলেন প্রায় ২ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, অস্ত্র দিয়েছেন ইহাতেই প্রমাণ হয় মিসেস গান্ধী মানবতার পক্ষে কাজ করেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেন, আইনের পক্ষে ছিলেন। আমরা মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর কাছে কৃতজ্ঞ।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, এনডিপি’র মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ.স.ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ন্যাপের সহ সভাপতি স্বপন কুমার সাহা, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক মুক্তি আন্দোলনের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী হাওলাদার, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল, বরিশাল বিভাগ সমিতির নেতা শহীদুন্নবী ডাবলু, বঙ্গবন্ধু আদর্শ বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শেখ আব্দুর রাজ্জাক সাকিল, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সহ সভাপতি জাহানারা বেগম, সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন দাস, সদস্য আমিন হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।

গোলাম মোস্তফা ভূইয়া বলেন, মিসেস গান্ধী মানবদরদী, গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন বলেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য সাহস যুগিয়েছেন। বাঙালি জাতি মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সফল করতে অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যে বিদেশি রাষ্ট্রনেতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন ও শরণার্থী সমস্যাটি বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে ইউরোপ ও আমেরিকায় ঝটিকা সফর করেন। এদিকে দেশে শরণার্থীদের ভরণ-পোষণেরও দায়িত্ব নেন। মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের বিপুলসংখ্যক অস্ত্রশস্ত্র আর বিশাল সেনাবাহিনী ছিল।

সভাপতির ভাষণে এম.এ জলিল বলেন, শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞ এবং চিরদিন স্মরণ রাখবে। সেই জন্যই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইন্দিরা মঞ্চ যেখানে ছিল সেখানে ইন্দিরা গান্ধীর প্রতিকৃতি স্থাপন এবং ফার্মগেটে ইন্দিরা সড়ককে ইন্দিরা গান্ধী সড়ক করার দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তবেই স্বার্থক হবে আজকের আলোচনা সভার।