আক্রোশে দোকান ভাংচুর অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি, হত্যার হুমকির অভিযোগ

61
gb

নিজস্ব প্রতিবেদক::
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গয়গড় গ্রামে আক্রোশমূলক ভাবে থেকে দোকান কোঠা নির্মাণে বাধা, ভাংচুর ও অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় দোকানের কোঠার মালিক তানভীর আহমদ শিপু মৌলভীবাজার মডেল থানায় বেআইনী জনতায় দোকান ঘরে অনধিকার প্রবেশ করিয়া ক্ষতি সাধন ও ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নাম্বার ০১, তারিখ- ০১/০৮/২০১৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গয়ঘড় এলাকার সিএনজি স্ট্রেন্ডের কাছে নিজ মালিকানাধীন জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করে আসছেন ওই এলাকার বাসিন্ধা খসরু আহমদের ছেলে তানভির আহমদ শিপু। কিন্তু আসামীরা আক্রোশমূলক ভাবে দোকান ঘর নির্মাণে বাধা ও আপত্তি দিয়ে আসতে থাকে। এরই জেরে গত ৩০ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টার সময় সব আসামীরা জরো হয়ে নির্মাণীধিন দোকান ঘরে প্রবেশ করে এবং সামনে থাকা ৪টি পাকা স্লেপ ভাংচুর করে। যার আনুমানিক মূল্য চল্লিশ হাজার টাকা। ওই সময় মামলার বাদি ও তার পিতা ভাংচুরে বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি হুমকি দেয়। এমনকি এই ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললে আসামীরা মামলার বাদিকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেয়ার কথা বলে।
মামলার আসামীরা হলেন- একই এলাকার সোহেল মিয়া (৩৫), কায়েল মিয়া (৩০), কাইয়ুম মিয়া (২৬), ফারুক মিয়া (৩০), আবদাল মিয়া (৪৮), শাকিল মিয়া (২৪) ও আছকর মিয়া (৫৫) সহ আরোও ৪/৫জন অজ্ঞাতনামা।
অন্যদিকে একই এলাকার জয়নাল আবেদিন অভিযোগ আনেন যে দোকান কোঠা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হয়। কিন্তু অভিযোগের তদন্তে পুলিশ সত্যতা পায়। এবিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার পিএসআই মির্জা মাহমুদুল করিম পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন মিয়া, জয়নাল আবেদিন সহ অনেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায় দোকান ঘরটি রাস্তা থেকে অনুমানিক ৬ফুট দূরে নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণের খাল রয়েছে। যেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন অসুবিধা নেই। দোকান ঘরের আসা যাওয়ার জন্য স্লেপ বসানো হয়েছে, যা পানি নিষ্কাশনে কোন প্রতিবন্ধকতা করে না। এমনকি স্থানীয় জয়নাল আবেদিনের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করায় তিনি এই অভিযোগ করেন। এবং দোকানের স্লেপ জয়নাল আবেদিনের লোকজন ভাংচুর করে এটা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিএনজি স্টেন্ডের পাশের দোকানকোঠা গুলোর কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়। দোকানের সামনের স্লেপগুলো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ব্যক্তি আসামীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, “মামলার প্রধান আসামী সোহেল বিভিন্ন সময় নানা পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, বাটপারি ও মানুষদের হয়রানি করে আসছে। তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। অনেক সময় নেতাদের নাম ভাঙায়ি মানুষের কাছ থেকে পার পেয়ে যায়”। এবিষয়ে আসামীকের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা বলেন। আসামীরা জামিন নিয়ে অনেকে গাঁ ডাকা দিয়েছেন।
এবিষয়ে মামলার বাদি তানভির আহমদ শিপু বলেন, “কি কারণে তারা আমার দোকান ঘরে ভাংচুর করছে আমি বুঝে উঠতে পারছি না। পানি নিষ্কাশনে বাধা হচ্ছে বলে বাহানা দেখিয়ে তারা দোকানে ভাংচুর করেছে। নিশ্চই তাদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। আমরা এর সঠিক বিচার চাই”।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More