ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদ করলেন বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব

61
gb

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ||

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইটাউরি বাজারের অদূরে জুয়াড়িদের একটি স্থায়ী আস্তানা ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেই সাথে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে ইটাউরি বাজারের একটি চায়ের দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় দেয়া ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরদিন মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দীর্ঘদিনের এ স্থায়ী জুয়ার আস্তানাটি ভেঙ্গে উচ্ছেদ করে দেন। সূত্র জানায়, উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইটাউরি বাজারের অদূরে লাইলন মিয়ার খালিবাড়ির একটি টিলায় ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলে আসছিলো। জুয়া খেলার জন্য টিনশেড দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ওই বাজারের একটি দোকানেও চলতো জুয়া খেলা। প্রতিদিনই বড়লেখা ও আশপাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে জুয়াড়িরা সেখানে গিয়ে জুয়া খেলতো। এতে এলাকার বিভিন্ন বয়সের মানুষও অংশ নিয়ে সর্বস্ব হারায়। জুয়ার টাকা মেলাতে তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়তো।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক গত সোমবার দুপুরে পুলিশ প্রশাসন আয়োজিত সুধী সমাবেশে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলে উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যর্থতা উল্লেখ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জুয়ার আস্তানা উচ্ছেদের ঘোষণা দেন। প্রতিশ্রæতিমতো পরদিন মঙ্গলবার সকালে সোয়েব আহমদ থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে টিলার উপরের দীর্ঘদিনের জুয়ার আস্তানাটি ভেঙে জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করে দেন। এরপর জুয়া খেলার সরঞ্জামগুলো ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে বাজারের ব্যবসায়ী জবরুল নামের ব্যক্তির চায়ের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। দুপুর ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই অভিযান চলে। উচ্ছেদকালে উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পুলিশ পরিদর্শক) মোশাররফ হোসেন, বড়লেখা পৌরসভার কাউন্সিলর জেহিন সিদ্দিকী, ইউপি সদস্য সাজু আহমদ, শামীম আহমদ, সিরাজ উদ্দিন, কবির আহমদ, রশিদ আহমদ সুনাম, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছাত্র নেতা সুমন আহমদ প্রমুখ। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, কান্দিগ্রামের কটন আলী, খালেদ আহমদ, মুজিব, জিতুল আহমদ, ইটাউরি গ্রামের রুবেল আহমদ, আলতাফ হোসেন ও কবিরা গ্রামের মাশুক আহমদ টিলায় ঘর তৈরি করে এই জুয়ার আসার পরিচালনা করতো।
বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াছিনুল হক জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ইটাউরি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। টিলার উপরে নিয়মিত খেলা চলতো । সরঞ্জামসহ এটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জুয়া খেলা হতো এ রকম একটি চায়ের দোকানও বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ জানান, বড়লেখা উপজেলাকে মাদক এবং জুয়ামুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। যতোদিন পর্যন্ত মাদক এবং জুয়ামুক্ত হবে না ততোদিন পর্যন্ত প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। যে এলাকায় এই ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড দেখা যাবে, তারা এই খবর যেনো দ্রæত আমাদেরকে জানায়।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More