সামাজিক সুচকের হোক অগ্রযাত্রা

108
gb

মিজানুর রহমান মিজান।|

সঙ্গীত একটি মর্মস্পর্শী হৃদয়াবেগ। মানুষ তার হৃদয় গ্রাহী অন্তমূল থেকে উৎসারিত ছন্দময়তার স্পর্শ জনিত কথা, আবেগ বাণী বদ্ধভাবে সুরের সংযোজনে পরিব্যক্ততাতে সঙ্গীত নামে আখ্যায়িত করে,করে থাকেন। মানুষের আত্মার অন্তনির্হিত আবেগের বহিঃপ্রকাশ বললে ও অত্যুক্তি হবে না।। বাংলাদেশে সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা রয়েছে। লোক সঙ্গীত, মুর্শিদী, মারিফতি, জারি, সারি, ভাটিয়ালী, ভাওয়ালী, কীর্তন ইত্যাদি এক বিশাল সমৃদ্ধ ভান্ডারের অ ল বা এলাকা। এখানে অনেক জ্ঞাণী গুনীজন অনেক কালজয়ী সঙ্গীত রচনা করে মানুষের মনে আনন্দ দান করেছেন এবং হয়েছেন ইতিহাস রচনার নায়ক।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ সাধনার যুগে অপসংস্কৃতির, পশ্চিমা সংস্কৃতির অবাধ প্রচলনে আমরা অনেকটা নিজস্ব ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। বর্তমান প্রজন্ম তথা ভবিষ্যত প্রজন্ম স্বকীয় চেতনার শিকড় থেকে অনেক দুরের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছি। এ ধারা কোন মতেই কাম্য হতে পারে না। জাতীয় চেতনা পরিহারে সুফল থাকেনা, সফলতা আসেনা পরিপূর্ণরূপে। নিজস্ব চেতনায় স্বকীয়তা বজায় রেখে পথ চলায় থাকে তৃপ্তি,আস্বাদ,সমৃদ্ধির ছোঁয়া। তাছাড়া নৈতিক অবক্ষয় আমাদেরকে গ্রাস করছে তিলে তিলে। লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ, রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হবার প্রবনতায় আকৃষ্ট। একে অপরকে ঘায়েল পশ্চাতে ফেলে“আমিত্বের” প্রতিষ্টায় আজ নিমগ্নতার জোয়ারে ভাসমান। একজনের গানের কলি অপরের বলে চালনা বা নকল করায় প্রতিভার প্রস্ফুরন,বিকাশ হয়না। একটি গাছের ফুলে অপর গাছে ফল আনা সম্ভব নয়। তাছাড়া “আমিত্ব” কে গুরুত্ব, প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে (সব নয়) শিষ্য গুরুকে স্বীকার করতে নারাজ এবং প্রতিষ্টিত কোন ব্যক্তিত্বের উপযাচক হয়ে শিষ্যত্ব স্বীকার করার প্রবণতায় আকর্ষিত।“সু-সময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয়,অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়” রাক্যের যথার্থ মূল্যায়ন। কথা গুলো বলছিলাম একদিন কথা প্রসঙ্গে আলাপ চারিতায় এক প্রবীন শিল্পী আক্ষেপ ও মনের খেদোক্তি স্বরূপ বলছিলেন“অগণিত শিষ্য তিনির নিকট থেকে সঙ্গীতের তালিম নিলে ও হাতে গোনা ক’জন গুরুর মর্যাদা,মান, শ্রদ্ধা,ভালবাসা প্রদর্শন করলে ও উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক শিষ্য তা প্রদর্শনে, স্বীকৃতি প্রদানে অসংকোচ বোধে অভ্যস্থ। আবার কখন ও কখন ও দেখা যায় গুরুর মান মর্যাদা বৃদ্ধি বা প্রতিষ্টা লাভে অশিষ্য ও শিষ্যের দাবীদার বলে বেড়াতে। চাপাবাজী, ধাকাবাজীতে প্রলুদ্ধ অতিশয়। গলাবাজীতে আরো এক ধাপ এগিয়ে।“আমিত্বের” প্রকাশই বা শ্রেষ্টত্বের দাবীদার হবার একমাত্র লক্ষ্য।এক্ষেত্রে “কাজে কাজী” বাক্যটির অসারতাই গন্য। অথচ ধর্মীয় বা সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই তা অগ্রহণ যোগ্য বা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত। চাটুকারীতা বাদ দিয়ে প্রকৃত সত্যের ধাছে মন মননে গ্রহনতায় কিন্তু প্রতিষ্টা বা মর্যাদা বৃদ্ধি পায় স্থায়ী রূপে। আরো প্রমান রয়েছে বা প্রবাদ বাক্য স্বরূপ বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে“ সত্য আগে পরে ভাসমান”। চাটুকারীতায় কিছু অগ্রসর হলেও এক সময় ধপাস করে পড়ে যেতে হয়। তা হয়ে ও থাকে। সুতরাং সুস্থ ও প্রকৃত সত্যের আঙ্গিকে বিচরণ করে উত্তরণ, সমৃদ্ধি লাভে স্থায়ী আসনের ব্যপ্তি প্রসারিত।
আরেকটি উদাহরণ দিলে হয়তো পাঠকের চোখ খোলার সম্ভাবনা মনে করে এখানে উদ্ধৃতির গ্রহনযোগ্যতা আসবে। গুরুর প্রয়ানে শিষ্যের নিকট খবর পৌছালে তাৎক্ষনিক শিষ্য গুরুর শিষ্যত্ব স্বীকার করলেন এবং অনেক প্রকার গুন কীর্তনে হলেন ব্যস্থ। কিন্তু গুরু সম্পর্কে লিখিত কিছু তথ্য প্রদানের অনুরোধে দেখা গেল শিষ্য লিখলেন, একদিন একটি বাজারে চায়ের দোকানে স্বল্প পরিচয়। অথচ গুরুর বাড়ীতে থাকা খাওয়া দীর্ঘদিন করলেন,গুরু অপর এক ব্যক্তির সহিত বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে দিলেন। এ কাজে গুরু শিষ্যের সম্পর্ক সম্পর্কে বিপরীত্য পরিলক্ষিত হলো অত্যধিক। এ আচরণ করে“ মানুষ মানুষের জন্য” বা মানবিক শব্দের অপব্যখ্যা প্রকাশিত হবার ফলে“মানুষের মনে দুঃখ দিওনা” শব্দের কতটুকু মর্যাদা প্রদর্শিত হলো প্রশ্ন থাকা অস্বা^ভাবিক হবে কি ?
ইদানিং প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় মানুষের প্রগলভতার অগ্রযাত্রা। (সব নয়) চতুপার্শ্বে ঈর্ষা, ক্ষুদ্রতা, লোভ, স্বার্থপরতা, হীন স্বার্থচারিতা নানা রকম কদর্য রূপ দেখতে দেখতে এক সময় মানুষ সম্পর্কে নৈরাশা ও দুরাশা এসে যায়। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় চরম দূর্ভিক্ষ পীড়িত চারিত্রিক সংকট অতিক্রম করছি। তোষামোদ ও দূর্নীতির বেড়াজাল পরিবেষ্টিত পারিপার্শ্বিক অবস্থানে আমাদের বসবাস। তাই বলে ঢালাও ভাবে সবার উপরে বদনাম দিচ্ছি না। সমাজে অবস্থান করছেন অনেকেই সত্যের আলোর দিশারী হয়ে যা তুলনা মূলক নিতান্ত অল্প সংখ্যক এবং তারা এক প্রকার কোনঠাসা। পরিছন্ন জীবন যাপন সর্বজন বিদিত হলে ও তা অবলম্বনে চলা অত্যন্ত কষ্ট দায়ক।
এ পৃথিবীতে আমরা অস্থায়ী জীবন যাপনের অধিকারী। স্বল্প আয়ু নিয়ে আসা যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন। মানব জীবনের অর্থই হচ্ছে কর্ম ও অনুসন্ধান মূলক। সুতরাং জীবনকে অর্থময় করে তোলার ক্ষেত্রে মানবিক গুনাবলী ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করতে সত্যের নিরিখে সঠিক পথে চলা অবশ্যম্ভাবী। “এই আছি এই নাই” জীবনকে অর্থবহ পথে ব্যয়িত হবে উত্তম। কদর্য রূপ মানুষ ভালবাসে না, সুন্দরকে সকল সময় আন্তরিকতায় গ্রহন করে। আমার/আমাদের জীবন যাত্রা হোক সুন্দর ও সুচারুর পরিক্রমায়। জীবন মানুষের বড় সম্পদ। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত জীবন সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করে যাবার অনুপ্রেরনা সমৃদ্ধ হোক এ প্রত্যাশা মন মননের।। আমাদের পাথেয় হোক স্রষ্টার প্রদর্শিত, নির্দেশিত শক্তি সাহস সমৃদ্ধ উত্থালতায়। সামাজিক সুচকের উত্তোরণ ঘটুক অবক্ষয়ের পথ পরিহারে মুল্যবোধ জনিত অনুপ্রেরণায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে চাই সুন্দরের ছড়াছড়ি।

কলামিস্ট, সম্পাদক দীপ্তি, প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক চাঁন মিয়া স্মৃতি পাঠাগার
সভাপতি বিশ্বনাথ প্রেস ক্লাব,বিশ্বনাথ,সিলেট।

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More