মিয়ানমারে ফিরে না গেলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানো হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন

95
gb

বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ 

আগামীকাল বৃহম্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে মিয়ানমারের নাগরিক, কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর রাখাইনে ফেরত যাওয়ার কথা। কিন্তু মিয়ানমার এখনও রাখাইনে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারায় এবং এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বুধবার, ২১ আগস্ট, রাত সাড়ে ৮টা) কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে রোহিঙ্গাদের আচরণ পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন প্রত্যাবাসন আবারও বাতিল হতে যাচ্ছে। তবে এখনো প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে, যারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইবেন না তাদেরকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পাঠানো হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন। পাশাপাশি কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে যেসব বেসরকারি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা প্রত্যাবাসনের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে প্রত্যাবাসন শুরু হবে। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় তো নেতিবাচক খবর পাচ্ছি। শুনতে পাচ্ছি যে, কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে যাতে ওরা (মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী) ফিরে না যায়। শিবিরগুলোতে লিফলেটও বিতরণ করা হচ্ছে। লিফলেটগুলোতে বলা হচ্ছে যে— ৫টি দাবি না মানলে রোহিঙ্গারা ফেরত যাবে না। কিন্তু ইস্যুটা হচ্ছে, বাংলাদেশ কেন নট বি হোস্টেজ টু দেওয়ার ডিমান্ড, রোহিঙ্গাদের ডিমান্ডে বাংলাদেশকে হোস্টেজ করা যাবে না, এটা ঠিক না। আগেও এসব কারণে ওরা (রোহিঙ্গারা) যায়নি। কিন্তু না গেলে ভবিষ্যৎটা তাদের খারাপ হবে। কারণ, তাদের তো আমরা এতদিন বসিয়ে খাওয়াতে পারব না। তাদের পেছনে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি। বিদেশিরা যে সাহায্য করছে আগামীতে এ সাহায্যও কমে যাবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের ফেরত যাওয়া উচিৎ। নিজের দেশে গেলে তারা তাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে পারবে। আর তারা যে দাবি-দাওয়ার কথা তুলেছে তা তাদের নিজের দেশে গিয়েই অর্জন করা উচিৎ। আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের আলাপ হয়েছে, দে উইল প্রোভাইড, দে হেভ গিভেন দেম গ্যারান্টি উইথ সিকিউরিটি, সেফটি অ্যান্ড মোবিলিটি, এই নিশ্চয়তাগুলো মিয়ানমার আমাদের দিয়েছে। সুতরাং তাদের এখন ফিরে যাওয়া উচিৎ।’.                                   সর্বশেষ যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে কেউই ফিরে যেতে রাজি হচ্ছে না, এমন অবস্থায় বাংলাদেশ কী করবে, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, ‘না গেলে তারা ভুল করবে। যারা যাবে না, উই সুড টেক দেম, ফোর্স দেম টু ভাসানচর, তাদেরকে ভাসানচরে পাঠিয়ে দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব বিদেশি সংস্থা ফিরে না যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে, আমরা মনে হয় ওইসব সংস্থার দেশে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া ঠিক হবে। আমি শুনেছি যে, হংকংভিত্তিক একটি গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এদের (রোহিঙ্গা) পাঠানো উচিৎ না। আমরা এখন ওই সংস্থাকে বলব যে, তবে তোমরা রোহিঙ্গাদের হংকং নিয়ে যাও। যেসব সংস্থা কক্সবাজারের শিবিরগুলো কাজ করছে এবং ফিরে না যাওয়ার জন্য প্ররোচণা দিচ্ছে, আমার মনে হয়, দেয় সুড বি উইড্র ফরম দিস প্লেস।’

কক্সবাজার থেকে  প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তালিকার মধ্যে মাত্র ১০০ জনের মতো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। বাকিরা ফিরে যেতে চাচ্ছে না। এই বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘যেতে রাজি হওয়া রেলিটিভ টার্ম। ভয়েই অনেকে ফিরে যেতে রাজি হচ্ছে না। কারণ শিবিরগুলো এখন নতুন নতুন নেতা তৈরি হচ্ছে, তারা সবাইকে বলছে যে যেই ফিরে যাওয়ার কথা বলবে তাকে গুম করে ফেলবে। এটা খুবই বাজে পরিস্থিতি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরত যেতেই হবে। কেননা ফিরে না গেলে তাদের ভবিষ্যতই অন্ধকার হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করছি। মিয়ানমার তো এমনিতেই রোহিঙ্গাদের নিতে চায় না। এখন মিয়ানমার ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। তাদের জন্য বাড়িঘর তৈরি করেছে, তাই এখন তাদের ফিরে যাওয়া উচিৎ।’

এদিকে, মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জো এইচটে গত শুক্রবার (১৬ আগস্ট) নেপিডো’তে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে জানান, আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যবাসন শুরু করতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্মত হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে আনা হবে।

জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এরই মধ্যে জানিয়েছে যে প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেনি মিয়ানমার। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক নয়।

গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন প্রায় ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের একাধিক শিবিরে মিয়ানমারের নাগরিক প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইন সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। তুমুল সমালোচনা করছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, কুয়েত, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন