পাথরে মতো করে মানুষ ভাঙ্গিয়ে পলাশবাড়ীতে শত শত মানুষকে সর্বশান্ত করা কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ীর বিলাশ বহুল অট্টালিকা


আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা :
একসময় পাথর ভাঙ্গার কাজ করতো এর পর চড়া সুদের টাকা লাগিয়ে মানুষজন কে আটকিয়ে রেখে বাড়ী ঘর জমিজমা বিক্রি করে পাথর ভাঙ্গার মতো মানুষ কে ভাঙ্গিয়ে আজ দুই ভাই কোটিপতি।  টাকার পাহাড়ে মানুষ কে মানুষ মনে করে না নেই অন্তরে তাদের দয়া মায়া পিচাসের মতো রক্ত চুষে নেওয়ার মতো অর্থ আদায় যাদের মূল পেশা ও নেশা।  গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে শত শত মানুষকে সর্বশান্ত করে বিলাশ বহুল অট্টালিকা তৈরি করেছেন কুখ্যাত দাদন ব্যবসায়ী রুহুল আমিন ও কোটি পতি হয়েছেন ছোট ভাই জহুরুল ইসলাম। এই দু ভাইয়ের নামে বেনামে ব্যাপক দৃশ্যমান সম্পদ রয়েছে।  দাদন ব্যবসার খপড়ের ফেলে অনেক কেই তারা এলাকা ছাড়া করেছেন।  বর্তমান এক হিন্দু ব্যবসায়িকে এলাকা ছাড়া করার মহা পরিকল্পনা মত্ত হয়ে পড়ায় অবশেষে সেই ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর বিষয়টি উঠে আসায় টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীসহ ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন জানান, পলাশবাড়ী  পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামের ময়না  কসাই এর  ছেলে রুহুল আমিন  এক সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগে দিন মজুরের কাজ করতো। রাস্তার কাজের বড় ছোট পাথর ভাঙ্গার শ্রমিক হিসাবে কাজ করে দিন যাপন করতো বর্তমানে এই দু ভাই তারা আজ দাদন ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক । প্রায় ২৫ /৩০ বছর আগে  মাত্র কয়েক হাজার টাকা নিয়ে তিনি শুরু করে দাদন ব্যবসা শুরু করলেও অল্পদিনের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন । যাদের ঘর আছে মালামাল নেই গোটা বছরে ব্যবসার কোন লস নেই খালি খালি লাভ আর লাভ। এসকল দাদন ব্যবসার টাকা আদায় করতে ভয়ংকর রুপ ধারন করতে থাকে এই রুহুল আমিন ও জহুরুল গং ।কেউ টাকা নিয়ে সময় মত  দিতে না পারলে টর্চার সেলে নিয়ে নির্মম  নির্যাতন চালানো মাধ্যমে বসত বাড়ী ও জমি জমা লিখে নিতো। এই নির্যাতনের ফলে আজ অনেক মানুষ সম্পদ হারা ,এলাকা ছাড়া হয়ে গেছে। তাদের গোষ্ঠিগত দাপট ও শক্তির বলে তারা দিনের পর দিন এভাবে বাধাহীন হয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ।  

তারা আরো বলেন, তাদের সর্বদা সব সময় সহযোগিতা করতেন সাবেক একজন ইউপি চেয়ারম্যান। তার প্রভাবেই তিনি হাজার থেকে লক্ষ এর পর কোটিপতি বনে যায়।থানা শালীশ কিংবা আইনগত জটিলতায় পড়লে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় তা মিমাংসা করা হতো। টাকা দিতে না পারা এমন বেশ কয়েকজন ব্যাক্তির মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য ব্যক্তিরা হলেন পৌর এলাকার গৃধারীপুর জেলাল,নুর আলম,চকপাড়ার আইজার,নওশা,মনোয়ার,সিএন্ডবির মজিবর মহেষপুরের আনোয়ার মুন্সি,পলাশগাছীর মৃত মোজাম্মেল, গৃধারীপুরের জাহিদুল,ভাটা মালিক বক্কর,ডিস ব্যবসায়ী প্রভাতসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি। এদের কারো চেক বহি স্বাক্ষর, কারো সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে  জিম্মি করে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায় করা হয়ে থাকে।অনেকে শেষ সম্বল বাড়ী ভিটে মাটি জমি নিজ নামে লিখে নিয়ে সর্বশান্ত করে বিলাশ বহুল অট্টালিকা তৈরি করেছেন এই দাদন ব্যবসায়ী রুহুল আমিন ও কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সহোদর ভাই জহুরুল ইসলাম। এ ছাড়াও টাকার বিনিময়ে সোনার গহনা,মুল্যবান আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল,গরু ছাগল পর্যন্ত ধরে নিয়ে যাওয়ার মত নজির স্থাপন করেছেন এই দাদন ব্যবসায়ীরা। টাকা আদায়ের জন্য রুহুল আমিনের রয়েছে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী বাহিনী।এটা মোটরসাইকেল হাকিয়ে প্রতিদিন টাকা আদায়ের জন্য ভুক্তভোগীদের বাড়ীতে গিয়ে বিভিন্ন অত্যাচার চালায়। সম্পৃতি রুহুল আমিন পৌর শহরের গৃধারীপুর গ্রামে তৈরী করেছেন কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলা একটি ভবন। রুহুল আমিন ও তার ভাই জহুরুলের অবৈধ এসব সম্পদের উৎস খুজতে গিয়ে জানা যায় তাদের অবৈধ দাদন ব্যবসার পাশাপাশি মাদক সেবন ও ব্যবসার রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা ।

তাদের বেপরোয়ায় পরিবার ও নিজের জীবনের জন্য হুমকি হওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় পলাশবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী প্রভাত চন্দ্র।
এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার হবে বলে জানান।
অভিযুক্তদের সাথে কথা বলতে গেলে ,তাদের না পাওয়ায় কোন মন্তব্যে পাওয়া যায়নি। তবে তারা অভিযোগকারী ব্যক্তিকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি অব্যহত ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।  

অন্যদিকে ইতিমধ্যে তাদের এসব অপকর্ম গত দু তিন দিন হলো লাগাতার বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত দাদন ব্যবসায়িরা নিজ নিজ বসত বাড়ী হতে অবৈধ এসব সম্পদ স্বর্ণলংঙ্কার,দলিল,নগদ অর্থ আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে হস্তান্তর করেছেন বলে জানা যায়। অবৈধ সম্পদের উৎস উৎঘাটনের স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা  প্রয়োজন ।  
ধারাবাহিক পর্ব -(২) দেখতে চোখ রাখুন।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন