বিয়ানীবাজারে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসুতির মৃত্যু; স্বজনদের হামলা

836

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার ||
চিকিৎসকদের অবহেলায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ডাক্তারদের অবহেলার অভিযোগ এনে হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে মৃতের স্বজনরা। গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মৃত প্রসূতির ক্ষুদ্ধ স্বজনরা হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এসময় বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ এসে ক্ষুদ্ধ স্বজনদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
তবে হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে থাকা ডাক্তাররা প্রসূতিকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরন বন্ধ না হওয়ায় সিলেটে প্রেরণ করা হয়, হাসপাতালের কেউই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মৃত প্রসূতির স্বজন সুত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার শ্রীধরা গ্রামের বশারত আলীর মেয়ে সালমা আক্তার রুবিনা (৩০) গত বুধবার হাসপাতালে তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য যান। এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্স তার প্রসবের সময় হয়ে গেছে জানিয়ে ডেলিভারি করতে হবে বলে জানান। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রাত ৮টায় ডেলিভারি রুমে প্রসূতি রুবিনাকে নিলে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
জন্মগ্রহনকারি নবজাতক সুস্থ থাকলেও প্রসূতি নারীর অ’তিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সিলেট প্রেরণ করার জন্য হাসপাতালে থাকা দায়িত্বশীলরা স্বজনদের জানান। সিলেট ওসমানি মেডিকেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়ার পর স্বজনদের জানানো হয় প্রায় দেড় ঘন্টা পূর্বে রুবিনার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত প্রসূতির ভাই সাহেল অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে থাকা কর্তব্যরত ডাক্তার রক্তক্ষরনের কথা বলে অনেকটা জোর করে আমার বোনকে সিলেটে প্রেরন করেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তারদের পরামর্শে ইসিজি করার পর ডাক্তাররা জানান দেড় ঘন্টা আগে রুবিনা মারা গেছে।
রুবিনার ভাই সাহেল আরো বলেন, বিয়ানীবাজার হাসপাতালে আমার বোনকে মেরে ফেলে তারা পরে সিলেটে পাঠিয়েছে। তিনি তার বোনের এরকম হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, এখন পর্যন্ত প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় কেউ মা’মলা করেনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা তাকে বাঁ’চানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পিপিএইচ (অ’তিরিক্ত রক্তক্ষরন) এর কারণে ডাক্তারদের সব চেষ্টাই বিফলে গেছে। রাতে সিলেট নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।