প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেছেন।। এশীয় দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা হুমকি

182

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক আহমেদ সিদ্দিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে আজ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মিয়ানমারের ১১ লাখের বেশি উদ্বাস্তু রয়েছে। এরা ভবিষ্যতে শুধু বাংলাদেশের জন্যই না, বরং এশিয়া অঞ্চলের অনেক দেশের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ইউএনএইচসিআর ও আইওএম এর মতো বিদেশী এনজিওগুলোকে অবশ্যই মিয়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা ফিরে যেতে ভয় পাবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এর মিলনায়তনে ‘সেকেন্ড মিটিং অব ট্রাক ১.৫ বিমসটেক সিকিউরিটি ডায়লগ ফোরাম’ শীর্ষক এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিদ্দিক বলেন, রোহিঙ্গাদের সমস্যা যদি সমাধান করা না হয়, তবে বাংলাদেশ থেকে এই সংকটটি অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আপস-মিমাংসার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা উচিৎ। রোহিঙ্গাদের সংকটটি কিভাবে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে প্রচেষ্টা চালানো উচিত। আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী।’ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বর্তমান চিত্র, সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপযুক্ত উপায়। সহযোগিতামূলক নিরাপত্তার ধারণাটি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিন্ন কিছু ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তার চেয়ে বেশি রয়েছে অভিন্ন স্বার্থ। বিমসটেকের সকল সদস্যরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থাকে নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি শ্রীলংকা ও ভারতে সন্ত্রাসী হামলা বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব তলে ধরেছে।
সিদ্দিক বলেন, এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানী সংকট, খাদ্য, নিরাপত্তা ইস্যু, পানি নিরাপত্তা, জোরপূর্বক দেশান্তর, বাস্তুচ্যুত ও সাইবার নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন অপ্রচলিত সমস্যাও দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এর ভূখ- থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সফলভাবে হ্রাস করেছে। বর্তমান সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ‘আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ বাহিনী ও কমিউনিটি মোবিলাইজেশন সমন্বয়ের মাধ্যমে এ নীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিশেষায়িত দল সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
জঙ্গি অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে মানি লন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট-২০১২ ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, সরকার সমাজকে মাদকমুক্ত করার লক্ষে সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগলিক অবস্থানের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি ও আর্থসামাজিক অবস্থানই এর নিরাপত্তা পরিবেশকে সংজ্ঞায়িত করে।
বিস এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসান ও বিমসটেকের মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম।