মরণকামড় দিতে পারে ডেঙ্গু

412
gb

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ ||

ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে ৫০ জেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক হাজার ৯৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এবার বর্ষার শুরুতেই ঢাকায় মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটে, এখন বিভিন্ন জেলা থেকে আক্রান্তের খবর আসছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার জানিয়েছে, ৫০টি জেলায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় আক্রান্তদের অনেকে ঢাকা থেকে রোগ নিয়ে গেছেন। তবে রাজধানীর বাইরেও এডিস মশার বিচরণ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আক্রান্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) এক হাজার ৯৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৮২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে সোমবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৭ জন ডেঙ্গুরোগী। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিন হাজার ৮৪৭ জন। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে নয় হাজার ৭৮২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হয়েছে ৮৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী। সবচেয়ে বেশি ১২৫ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এছাড়া রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আরও ২৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫ জনের বেশি মানুষের মৃতু্যর খবর গণমাধ্যমে এলেও সরকারি হিসাবে এখনো মৃতের সংখ্যা আটজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে মিটফোর্ডে ১১৩, শিশু হাসপাতালে ৩৪, সোহরাওয়ার্দীতে ৪৮, হলি ফ্যামিলিতে ৪১, বারডেমে ২৩, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭, পুলিশ হাসপাতালে ২১, মুগদা মেডিকেলে ৬০, বিজিবি হাসপাতালে ১০ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭৯ ডেঙ্গুরোগী গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে।

একই সময়ে রাজধানীর বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট এক হাজার ২৮৩ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৩১ জন।

তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দানা ইত্যাদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ হলেও এবার এর ব্যতিক্রম পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বর হলে কাছের হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

চিকিৎসকরা জ্বরে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়াতে বলেছেন।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে রক্তের ঘনত্ব কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়ায় আক্রান্তের রক্তচাপ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে।

জ্বর ভালো হওয়ার পরও ডেঙ্গুজনিত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।

এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় তা প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বলা হচ্ছে।

অফিস, ঘর ও আশপাশে যেকোনো পাত্রে (এসির ট্রে/ফুলের টব) জমে থাকা পানি তিন দিনের মধ্যে পরিবর্তন করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় বলে দিনে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৩২ স্কুলকে অ্যারোসল দিলেন

মেয়র সাঈদ খোকন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মশক নিধনে ৩২ স্কুলে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে ক্যান বিতরণ করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সুরিটোলা স্কুল মাঠে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে মশক নিধনে এসব স্প্রে ক্যান বিতরণ করেন ডিএসসিসির মেয়র।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, আমরা সবাই এ শহরটাকে সুন্দর করে সাজাব। যেটা হবে সুন্দর, সুস্থ এবং বাসযোগ্য নগরী। তবে এজন্য আমাদের ও অন্যদের সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। অনেকেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মশামুক্ত করব। যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। এরই অংশ হিসেবে আমরা কোতোয়ালি থানার ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে অ্যারোসল স্প্রে ক্যান বিতরণ করেছি।

অনুষ্ঠানে ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনীতি দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আগেই সতর্ক করা

হয়েছিল: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এবারের বর্ষা মওসুমে এডিস মসার প্রাদুর্ভাব ও ডেঙ্গুর প্রকোপ যে বাড়তে পারে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই সরকারের আরেক দপ্তর থেকে এমন বক্তব্য এল।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বশেষ প্রস্তুতি জানাতে সোমবার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝরা বলেন, প্রাণঘাতি এ রোগ যে ঢাকার বাইরেও ছড়াতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও তারা আগেই জানিয়েছিলেন।

‘হ্যাঁ, আমরা ধারণা করতে পেরেছিলাম। ডাক্তারদের ফেব্রম্নয়ারি মাস থেকেই সতর্ক করা হচ্ছিল যাতে তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিতে পারে।’

ডা. সানিয়া জানান, মার্চ মাসে তারা ঢাকায় এডিস মশার বিষয়ে জরিপ চালান। তখনই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখা হয়েছিল।

‘আশঙ্কা থেকেই আমরা ডেঙ্গু গাইডলাইন আপডেট করেছি। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলাশহরে ডেঙ্গু টেস্ট কিট পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

বিএসএমএমইউতে ডেঙ্গু শয্যা

দেড় শতাধিকে উন্নীত

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু সেলের শয্যা সংখ্যা ৪০ থেকে বাড়িয়ে দেড় শতাধিকে উন্নীত করা হয়েছে।

সোমবার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কেবিন বস্নকের নিচতলায় ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা সেলের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ সময় উপাচার্য ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে করণীয় সবকিছুই করা হবে বলে উলেস্নখ করেন।

ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা সেল পরিদর্শনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল হান্নান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহাবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের আরপি সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসান ইমাম প্রমুখ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন